আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা...

শান্তা মারিয়া

নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা...

২০২৫ সাল বিদায় নিল। এসেছে নতুন বছর ২০২৬। ২০২৫ সালটি যেমন একদিকে ছিল ঘটনাবহুল এবং প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব মেলানোর, অন্যদিকে ছিল বেদনাময়। ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণ ছিল পুরো বাংলাদেশের জন্য এক মহাশোকের দিন। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে মনে পড়েছে অনেক স্মৃতি। ‘আপসহীন’ শব্দটি যেন সত্যিকারভাবে অর্থবহ হয়ে উঠেছিল তার জীবনে। খালেদা জিয়ার প্রয়াণে কাঁদছে বাংলাদেশ।

সাধারণ এক গৃহবধূ এবং দুই সন্তানের স্নেহময়ী জননী থেকে তিনি হয়ে উঠেছিলেন পুরো বাংলাদেশের শ্রদ্ধেয় নেত্রী। স্বাধীনতার ঘোষক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ার পর দৃঢ় হাতে বিএনপির হাল ধরেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন রাজনীতিতে।

বিজ্ঞাপন

মনে আছে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার দৃঢ় ও আপসহীন ভূমিকার কথা। নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হলেন, তখন আমি মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রেখেছি। আমার মতো অসংখ্য তরুণ-তরুণীর কাছে গণতন্ত্র ও রাজনীতির আইডল হয়ে ওঠেন তিনি। মনে পড়ে, কী বিপুল উৎসাহ ও আনন্দ অনুভব করেছিলাম এ দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার শপথ গ্রহণে। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী, যা সারা বিশ্বের নারীদের জন্যই ছিল গৌরবের।

তিনি তার শাসনামলে নারীর উন্নয়নে, নারীর ক্ষমতায়নে এবং নারীর শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। বেইজিং ঘোষণায় প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশও ছিল বাংলাদেশ।

তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামে ছিলেন আপসহীন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে শত প্রলোভনেও তিনি আপস করেননি। সব ধরনের জুলুম, নির্যাতন, বিপদ ও দুঃসময়ে তিনি পাহাড়ের মতো দৃঢ় ধৈর্য আর আত্মমর্যাদা বজায় রেখে সবকিছু সহ্য করে গেছেন; সহ্য করেছেন স্বামী ও সন্তানের অকাল মৃত্যুশোক। তবু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি; পালিয়ে বিদেশে চলে যাননি।

জীবনের শেষ বছরটিতে তিনি এই আত্মত্যাগের পুরস্কার পেয়ে গেলেন। জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী সময়েও তিনি কোনো ধরনের প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য দেননি। হাসপাতালে থেকেও দেশের শান্তি কামনা করেছেন প্রকৃতই দেশপ্রেমিক এই মহান নেত্রী। শেষ বছরটিতে তিনি যথাযথ সরকারি ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পেয়েছেন এবং আত্মীয়-পরিজনের সান্নিধ্য উপভোগ করেছেন। বিশেষ করে লন্ডনে সন্তানের সঙ্গে পার্কে তার ভ্রমণের দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত মমতাময়। তিনি দেখে গেলেন তার পৌত্রীদের সুপ্রতিষ্ঠা এবং তারেক রহমানের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা।

বিএনপির রাজনীতি সমর্থন করে না এমন ব্যক্তিরাও তাকে শ্রদ্ধা না জানিয়ে থাকতে পারেননি। দেশবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে তিনি অন্য ভুবনের যাত্রী হলেন। একজন মানুষের জীবনে এটাই তো পরম পাওয়া। বাংলাদেশ চিরদিন বেগম খালেদা জিয়াকে মনে রাখবে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। তিনি এদেশের রাজনীতিতে দৃঢ়তা, দেশপ্রেম ও মর্যাদার প্রতীক হয়ে থাকবেন।

জুলাই বিপ্লবের তরুণ নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুও ছিল বছরের শোকাবহ ঘটনা। ওসমান হাদির ঘাতকদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি চাই।

২০২৫ সাল নতুন প্রত্যাশা জাগিয়েছে তারেক রহমানের দেশে আগমনের মধ্য দিয়ে। ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে তার ফিরে আসা এদেশের নেতৃত্বের সংকট দূর করে নতুন দিনের প্রত্যাশার আলো জ্বেলেছে।

২০২৬ সালে আশা করছি, নতুন এক বাংলাদেশ দেখতে পাব। বিশেষ করে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, এমনটি আশা করি।

আমাদের প্রত্যাশা—বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সমর্থ হোক। জুলাই বিপ্লবের পর প্রত্যাশা করেছিলাম দুর্নীতিমুক্ত ও নতুন এক বাংলাদেশ। স্বৈরাচার বিদায় হলেও নতুন ও সুখী বাংলাদেশের স্বপ্ন এখনো যেন অনেকটাই অধরা। ২০২৬ সালে চাই নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ—সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ। নারীর অধিকতর ক্ষমতায়ন আশা করি। দুর্নীতি আর দেখতে চাই না। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন চাই। শুধু লোকদেখানো উন্নতি নয়। সত্যিকারভাবে যেন বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলে, সেটি চাই। পাশাপাশি শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতে বাংলাদেশি ঐতিহ্যের চর্চা নতুন গতি পাবে, এমনটি আশা করছি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন