বিয়ের পর দীর্ঘদিন সৌদি আরব থাকার পর ছুটিতে বাড়ি আসেন ওবায়দুল্লাহ। ছুটিতে এসেই স্ত্রী শাহিনুরকে নিয়ে নরসিংদীর শিবপুরে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যান তিনি। একসঙ্গে আনন্দ করতে নদীতে গোসলে নেমে তিনিসহ চারজন নিখোঁজ হন।
নদীতে নামার আগে একটি সেলফিও তুলেছিলেন তারা। কে জানতো এটিই তাদের জীবনের শেষ সেলফি হয়ে থাকবে।
নদীতে নিখোঁজ ওবায়দুল্লাহর স্ত্রী শাহিনুর বেগম জানান, আমার স্বামী সৌদি থেকে ছুটিতে বাড়ি আসে। তাই ওকে নিয়ে বেড়াতে বাবার বাড়ি আসি, ভাগিনারাও আসে। অনেক আশা ছিল একসঙ্গে অনেক আনন্দ করব।
শুক্রবার বিকেলে বাড়ির পাশের শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসলের জন্য আমার ছোট বোন শান্তা ওবায়দুল্লাহকে জোর করে নদীতে গোসল করতে নিয়ে যায়। সঙ্গে আমি ও ভাগিনা শান্ত যাই। শান্তা আমার স্বামীকে জোর করে নদীতে নামায়। এ সময় আমার হাত ধরা থাকায় আমিও পানিতে পড়ে যাই। এভাবে একে একে সবাই যখন পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকি, তখন আমাদের এক প্রতিবেশী আমাকে কোনোমতে উদ্ধার করে। বাকিরা পানিতে তলিয়ে যায়। এ ছাড়া সৌরভ নামে এক প্রতিবেশী উদ্ধার করতে গিয়ে সেও পানিতে তলিয়ে যায়।
এভাবেই চোখের সামনে আপনজনদের নদীতে ডুবে যাওয়ার কথা বলেতে জ্ঞান হারান শাহিনুর।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বিকেলে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার লাখপুর ঘাটসংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীতে।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা যাদের লাশ উদ্ধার করেছে তারা হলেন, গাজীপুর জেলার মো. ওবায়দুল্লাহ (৩৮), প্রতিবেশী সৌরভ (২০) মোসা. শান্তা (১৬)। এখনো নিখোঁজ রয়েছে শান্ত (২৪)।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম খান জানান, শীতলক্ষ্যার শিবপুর দুলালপুর অংশে বেড়াতে এসে একসঙ্গে চারজন নিখোঁজ হন। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে।
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া জানান, শিবপুরের লাখপুর গ্রামের মজনু মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন ওবায়দুল্লাহ, শান্তা ও শান্ত। বিকেলে ওই বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে তারা শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নামেন। সাঁতার না জানার কারণে তিনজনই পানিতে তলিয়ে যান।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

