কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন ডা. মো. শাহজাহান। তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং বিএনপির সমাবেশকে ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ আখ্যা দেওয়ার সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশব্যাপী গণঅভ্যুত্থান চলাকালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল স্বৈরাচারঘেঁষা চিকিৎসকদের সংগঠন ‘শান্তিকামী চিকিৎসক ও নার্সরা’। আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে গত বছরের ৩ আগস্ট তারা রাজধানীসহ সারাদেশে কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও একটি শান্তি মিছিল করে। তৎকালীন কুমেক পরিচালক ও আওয়ামী লীগঘেঁষা ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই মিছিলে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
চিকিৎসকদের একটি সূত্র জানায়, তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছিল, তখন মিথ্যে শান্তির বাহানায় এই মিছিলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছিলেন তারা।
এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, ডা. শাহজাহান ছিলেন কুমিল্লা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতা বাহারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সে সময় কুমিল্লার বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের কোনঠাসা করতে সাবেক ওই এমপির প্রভাব ব্যবহার করতেন তিনি। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজের রাজনৈতিক রূপ বদলে ফেলেন এবং নিজেকে বিএনপি পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে কুমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের চেয়ারে আসীন হন।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, ডা. মো. শাহজাহানের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া পৌরসভার এলাকায়। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের ঘনিষ্ঠ বরুড়া প্রেস ক্লাবের এক স্থানীয় সংবাদকর্মীর মাধ্যমে তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। নিজেকে মূলধারার বিএনপির অনুসারী দাবি করে মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের সুপারিশে স্থায়ী পরিচালক পদ পেতে তিনি বর্তমানে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুমেক হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক আমার দেশকে বলেন, ডা. শাহজাহান সাবেক এমপি বাহারের ঘনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। এখন তিনি রাতারাতি বিএনপি সেজে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের চেয়ারে বসার পর থেকে তার আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। কোনো সেবাপ্রার্থী বা সংবাদকর্মী তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি কথা না বলে উপপরিচালক ডা. নিশাত সুলতানার কাছে পাঠাইয়া দেন। এমনকি হাসপাতালে নানা অব্যবস্থাপনার বিষয়ে বক্তব্য নিতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেন না। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সাংবাদিকেরা।
বিষয়টি নিয়ে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কুমিল্লা জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ডা. এম এম হাসানআমার দেশকে বলেন, আমরা এখন নতুন করে শুনছি তিনি কুমেক হাসপাতালের নিয়মিত পরিচালক হওয়ার জন্য জোর লবিং চালাচ্ছেন। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের বিরোধীরা এখন সরকারের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে সত্যিকারের বিএনপিপন্থীদের কোনঠাসা করে ফেলছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে ডা. মো. শাহজাহানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা এবং সরাসরি সাক্ষাৎ করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাড়া না দেওয়ায় তার কোনো মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

