পড়াশোনা শেষ। এবারতো চাকরি নিয়ে ভাবতে হবে। পরিবার থেকে কত কিযে চাপ! বাবা-মায়ের সামনে আসলেই প্রশ্নের হিড়িকের সামনে পড়তে হয়। তবে চাকরিতে যাওয়ার আগে নিজেকে কয়েকটি ধাপে তৈরি করতে হবে সেকথা আর কজন জানেন? চলুন এবার জেনে নেয়া যাক চাকরিতে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে কী কী গুণাবলী প্রয়োজন।
১. নেতৃত্বের যোগ্যতা
প্রতিষ্ঠানগুলো এমন মানুষ চায়, যাদের প্রতিষ্ঠানে ভালো সম্ভাবনা আছে। চাকরিপ্রার্থীর নেতৃত্ব দেওয়ার মতো গুণ থাকলে তাকে স্বভাবতই অন্য প্রার্থীদের তুলনায় প্রতিষ্ঠান বেশি পছন্দ করবে। তারা প্রত্যেক ব্যক্তির কাছ থেকেই তাদের টিমের নেতৃত্বের যোগ্যতা আশা করে।
২. প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া ও কাজ করার ক্ষমতা
কর্মীরা যেকোনো অবস্থার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারে কি না, সেটা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাজে ভুলত্রুটি থাকবেই। কিন্তু প্রত্যেক কর্মীই তাদের সমস্যা নিয়ে ইতিবাচকভাবে ভাববে এবং ভুলগুলো দ্রুত সংশোধন করে নেওয়ার মতো মানসিকতা থাকবে, এমনটাই আশা করে প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নানা বিরূপ পরিবেশে কাজ করতে হতে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলো চায় বিরূপ পরিবেশেও কাজ করার উপযোগী কর্মী। এ কারণে নিয়োগ দেওয়ার সময়ও তাদের লক্ষ্য থাকে এমন কর্মী খুঁজে বের করা।
৩. সরলতা ও বন্ধুবৎসল
যেসব কর্মী সহজ-সরল ও অকপট তারা প্রতিষ্ঠানের জন্য খুবই উপযোগী। এ কারণে সরল ধরনের মানুষকেই খোঁজে প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা প্রতিষ্ঠানের আমলাতন্ত্র দূর করতেও সাহায্য করে। সব মিলিয়ে এমন মানুষ নতুন ধারণা আমদানি ও যোগাযোগে সফল হয়।
নিয়োগের জন্য ম্যানেজাররা বন্ধুবৎসল ও সহজে যোগাযোগে সক্ষম মানুষ খুঁজে বের করে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে এমন মানুষ সহজেই মানিয়ে নিতে পারে।
৪. প্রতিযোগিতার মনোভাব
সফল প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সবচেয়ে ভালো কর্মীদের অন্যদের থেকে আলাদা দৃষ্টিতে দেখে। এ কারণে নিয়োগ করার সময়ও তারা প্রতিযোগিতার মনোভাবসম্পন্ন প্রার্থী খুঁজে বের করে।
৫. নিয়ন্ত্রণযোগ্য ও কাজে আগ্রহী
নিয়োগ করার সময় কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকারী ম্যানেজারের অন্যতম নজর থাকে, নতুন নিয়োগকৃত ব্যক্তিকে যেন ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যে ব্যক্তি বাইরের কোনো শক্তির দ্বারা চালিত হবে না এবং ম্যানেজারের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে কাজ করবে, এমন ব্যক্তিকেই নিয়োগ করতে চায় প্রতিষ্ঠান।
কোনো নির্দিষ্ট কাজ সম্পর্কে আগ্রহী বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহী ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে চায় প্রতিষ্ঠানগুলো। নিয়োগ করার আগে আপনি কাজটি সম্পর্কে আগ্রহী এবং সে কাজটি উপভোগ করবেন কি না, তা বিবেচনা করে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।
৬. বিশ্বাসী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী
কোনো প্রতিষ্ঠান অবশ্যই নিয়োগ করার জন্য বিশ্বাসী কর্মী চায়। নিয়োগ করার সময়েই যদি চাকরিপ্রার্থীকে কোনো কারণে সন্দেহ হয় যে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করছে না, কিংবা বিশ্বাস ভঙ্গ করার আশঙ্কা রয়েছে, তখন তারা কোনোভাবেই তাকে নিয়োগ করবে না।
নিয়োগের আগেই প্রতিষ্ঠানগুলো চায় উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মী খুঁজে বের করতে। উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মীরা সব সময় নিজেদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানকেও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। তারা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এবং বাধা অতিক্রম করে যায়। এ ধরনের কর্মীরা কখনোই তাদের অবস্থানে সন্তুষ্ট থাকে না।
৭. সৃষ্টিশীল ও দক্ষতা
প্রতিষ্ঠানগুলো সব সময় চায় নতুন কিছু প্রতিষ্ঠানে আমদানি করতে। এ কারণে সৃজনশীল কাজ করতে সক্ষম কর্মীদের চাহিদা থাকে।
প্রতিষ্ঠান চায় দক্ষতাসম্পন্ন এমন মানুষকে নিয়োগ করতে, যাকে তেমন কিছু শেখাতে হবে না। এতে প্রতিষ্ঠানের অর্থ ও সময়ের সদ্ব্যবহার হবে।
৮. সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা
কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মীদের প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করতে চায়। প্রয়োজনের মুহূর্তে এ ধরনের কর্মীরা বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যেসব কর্মী নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে পারে না বা অন্যের ইচ্ছেতেই সব সিদ্ধান্ত নেয়, এমন কর্মীদের বিপরীত হয় এ ধরনের কর্মীরা।
৯. টিমওয়ার্কে দক্ষ
টিমওয়ার্ক কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতামূলক কাজের মধ্যেও একে অন্যের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে, এমন কর্মী খুঁজে বের প্রতিষ্ঠানগুলো।
১০. সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যপ্রিয়
জীবনের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া যেমন চলে না, তেমন চাকরির ক্ষেত্রেও লক্ষ্যবিহীন মানুষ নিয়োগ করতে চায় না প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যকে যে কর্মী নিজের লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করবে, এমন কর্মীই প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগ করতে চায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

