শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ফুলতগঞ্জে হজরত মজিদ শাহ দরবার শরীফের প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো সাপ্তাহিক মেলা বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অনুমতি ছাড়াই মেলা পরিচালনা এবং মেলা চলাকালে মাদকসেবনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার অভিযান চালিয়ে মেলার সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতি বুধবার দরবার শরীফ এলাকায় সাপ্তাহিক মেলার আয়োজন হয়ে আসছিল। তবে নিয়মিত এ মেলা পরিচালনার জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া মেলা চলাকালে মাদকসেবনের অভিযোগও পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলার ফুলতগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত হজরত মজিদ শাহ দরবার শরীফে প্রায় পাঁচ দশক ধরে প্রতি বুধবার সাপ্তাহিক মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। মেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট বসত। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষেরও ব্যাপক সমাগম হতো।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দরবার শরীফে বার্ষিক মাহফিল আয়োজনের অনুমতি রয়েছে। তবে সাপ্তাহিক মেলার জন্য কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়াই মেলা পরিচালিত হয়ে আসছিল বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এর মধ্যে মেলা চলাকালে মাদকসেবনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার রাতে উপজেলা প্রশাসনের একটি দল মেলা চলাকালে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় মেলা পরিচালনার প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মাদক ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে প্রশাসন।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাপ্তাহিক মেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত দরবার শরীফের ধর্মীয় কার্যক্রমের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। দরবার শরীফের ভক্ত ও অনুরাগীরা তাদের ধর্মীয় বিধিবিধান এবং অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রম আগের মতোই পালন করতে পারবেন। একই সঙ্গে দরবার শরীফের বার্ষিক মাহফিল আয়োজনেও কোনো বাধা থাকবে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বুধবারের সাপ্তাহিক মেলাকে কেন্দ্র করে ফুলতগঞ্জ এলাকায় মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়ে আসছে। মেলায় অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা কিংবা মাদকসেবনের মতো ঘটনা ঘটে থাকলে প্রশাসনের মেলা বন্ধের সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। তবে দরবার শরীফের ধর্মীয় পরিবেশ ও ধর্মীয় কার্যক্রম যাতে নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এখানে অনুমতি ছাড়া মেলা চলছিল। পাশাপাশি মেলা চলাকালে মাদক ব্যবহার হচ্ছে—এমন অভিযোগও ছিল। বুধবার রাতে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। সেখানে মেলার অনুমতি না থাকার বিষয়টি পাওয়া গেছে এবং মাদক ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া যায়। এ কারণে মেলার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে মেলা আয়োজন করতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। তবে দরবার শরীফের ভক্ত-অনুরাগীরা তাদের ধর্মীয় বিধিবিধান ও অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পালন করতে পারবেন। বার্ষিক মাহফিল আয়োজনেও কোনো বাধা থাকবে না।”
প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলে আসা দরবার শরীফের সাপ্তাহিক মেলার নিয়মিত আয়োজন আপাতত বন্ধ হলো। তবে অনুমোদন নিয়ে ভবিষ্যতে মেলা আয়োজনের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

