তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প

তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প

একের পর এক মেয়াদ বাড়ানো হলেও শেষ হচ্ছে না ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৫৩৭ কোটি সাত লাখ টাকার মেগা প্রকল্পের কাজ। ২০১৮ সালে অনুমোদনের পর প্রাথমিকভাবে চার বছর সময় নির্ধারণ করা হলেও ইতোমধ্যে তিন দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ বর্ধিত মেয়াদও শেষ হয়েছে ৩০ জুন। কিন্তু এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে প্রকল্পের আওতাধীন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের নির্মাণকাজ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জুনে একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির প্রাথমিক মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথমে এক বছর, পরে আরো এক বছর এবং সর্বশেষ দেড় বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। তিন দফা মেয়াদ বৃদ্ধির পরও প্রকল্পটি শেষ করতে না পারায় এখন আবারও মেয়াদ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

৫৩৭ কোটি সাত লাখ টাকার এ প্রকল্পের আওতায় ৯টি নতুন ১০ তলা ভবন নির্মাণ এবং ১১টি বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর মধ্যে দুটি ছাত্র হল, দুটি ছাত্রী হল, একটি একাডেমিক ভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক ভবন এবং দ্বিতীয় প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের কথা ছিল। পাশাপাশি একাডেমিক ভবন, চিকিৎসা কেন্দ্র, টিএসসিসি, ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ ১১টি ভবনের সম্প্রসারণের কাজও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, সম্প্রসারণের অধিকাংশ কাজ শেষ হলেও নতুন ভবনগুলোর নির্মাণ এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী প্রকল্পের মোট অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ। প্রকল্পের ৩৪টি অঙ্গের মধ্যে ১৮টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে, প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ না হওয়ায় আবাসিক সংকট কাটছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। পাঁচটি হলের কাজ শেষ হলে চার হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী নতুনভাবে আবাসিক সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে প্রতিটি নতুন হলে এক হাজার এবং শহীদ আনাস হলের বর্ধিত অংশে ৫০০ শিক্ষার্থী থাকার সুযোগ পাবে।

কাজ সম্পন্ন করতে না পারার কারণ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ড. নওয়াব আলী আমার দেশকে বলেন, প্রকল্পের প্রস্তাবনা আসে ২০১৮ সালে। কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে, তবে ২০২০ সালের করোনা মহামারির কারণে টেন্ডার পেতে প্রায় বছর দেড়েকের মতো বিলম্ব তৈরি হয়। এছাড়া, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজে ধীরগতি বাড়তে থাকে। নতুন প্রশাসনের নির্দেশ রয়েছে এ বছর ডিসেম্বরের মধ্যেই অবশিষ্ট কাজ শেষ করার।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাইশা কন্সট্রাকশন লিমিটেডের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মুন্না বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারলে আমরাও স্বস্তি পাই, কিন্তু আমরা প্রয়োজন মতো সব পাচ্ছি না। এখন জিনিসপত্রের দাম কয়েকগুণ বেশি, আমরা যে কাজে হাত দেই সেটাতেই লোকসান গুনতে হয়। তাছাড়া মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে আমাদের সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখেই মেয়াদ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের প্রতিষ্ঠানের মিটিং হয়েছে, জনবল সংকটটা আগামী সপ্তাহেই কেটে যাবে। আমরা এ বছর ডিসেম্বরের মধ্যেই হলের নির্মাণ কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম শরীফ উদ্দিন বলেন, সম্পূর্ণ প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কয়েকটি হলের কাজ এককভাবে ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। যতটুকু বাকি রয়েছে তার জন্য এ বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি পেয়েছি। আশা করছি, উপাচার্য মহোদয়ের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা কাজ শেষ করতে পারব।

সম্পাদনা : কামরুল ইসলাম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন