টু-থার্ড মেজরিটি নিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মাথায় জনগণের বিতৃষ্ণার শিকার হচ্ছে। এর কারণ হলো—সংস্কার নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার ৭০ শতাংশ জনগণের বিপক্ষে অবস্থান করছে। ফলে তারা জনগণের জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করেছে। এটা শুধু বিএনপির জন্যই নয়, রাষ্ট্রের জন্যও বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা।
তারা বলেছেন, এই দেশটাকে বদলে দেওয়ার জন্য এত মানুষ জীবন দিয়েছে; কারণ বর্তমান প্রজন্ম দেশটাকে বদলাতে চায়। আপনাদের জনআকাঙ্ক্ষার এই বিষয়টি বুঝতে হবে, তাদের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু আমরা ছয় মাসে যা দেখতে পেলাম, তাতে বলা হচ্ছে এই সংবিধানের সংস্কার নাকি করা যাবে না।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি গভর্নেন্স’ (সিআইপিজি) আয়োজিত ‘সরকারের ৬ মাস: প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও ঘাটতির মূল্যায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা অদ্ভুতভাবে লক্ষ্য করলাম, একজনের কারণে সংস্কার পরিষদ গঠিত হলো না, সংবিধানের সংস্কার শুরু হলো না। অথচ বাকিরা নীরবে তা সমর্থন দিয়ে গেলেন।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ ছিল জুলাই বিপ্লবের সব মানুষের আকাঙ্ক্ষার একটি বাস্তব রূপ, যাতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বশীল সব রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল। তারা চেয়েছিল, নতুন সরকার আসার পর পুরো রাষ্ট্রকাঠামোর চেহারা বদলে দেবে, যার মধ্যে সংবিধান সংস্কারও ছিল।
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, এতদিন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ বা দ্বিকক্ষ হওয়ার কথা ছিল, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ উঠে যাওয়ার কথা ছিল। নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট, পুলিশ প্রশাসনের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বদলে যাওয়ার কথা ছিল; কিন্তু একটি কাজও শুরু হয়নি। আমাদের সরকারপ্রধান ও বিরোধী দলের নেতারা সবসময় বলছেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। আমার কাছে বিষয়টি এখন কৌতুককর লাগে; কারণ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বলে তারা পাতায় পাতায় তা অস্বীকার করে যাচ্ছেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ হলো না, কেন হলো না—তা জানি না।
তিনি বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানের ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বারবার বলেছিলেন, এটা এমন একটা পর্যায়ে গিয়েছে যে একে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করা বা ময়লার স্তূপে ফেলে দেওয়া উচিত। বিএনপির একজন অবিসংবাদিত নেতা, যিনি এই সংবিধান নিয়ে বলেছিলেন, একে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করার সময় এসেছে। আজ তার দলই কী করে বলে যে বাহাত্তরের সংবিধানের বাইরে যাওয়া আমাদের নীতিগত অবস্থান নয়?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রফেসর ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উপাচার্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আগেও তো বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, এই বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল; কিন্তু কোনো দলীয় ব্যক্তিকে কি উপাচার্য করা হয়েছিল? আমার জানা নেই।
তিনি বলেন, প্রধান শাসক যত সৎ হোন না কেন, তার চারপাশ যদি লোভী, ধান্দাবাজ ও চাটুকাররা ঘিরে ধরে, তবে তিনি আর বাস্তবতা দেখতে ও বুঝতে পারেন না। শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন, তখন তাকে স্বৈরাচার হতে বেশি সময় লাগেনি; কারণ তার পাশে এই চাটুকার ও লুটেরারাই ছিল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইপিজির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মোজাম্মেল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


