আশুলিয়ায় লাশ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন, মূল হত্যাকারী গ্রেপ্তার

আশুলিয়ায় লাশ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন, মূল হত্যাকারী গ্রেপ্তার

আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া পচনধরা অজ্ঞাত এক ব্যক্তির গলাকাটা লাশের পরিচয় শনাক্তসহ হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উন্মোচন করেছে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ঢাকা জেলা। এ ঘটনায় জড়িত মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতের নাম আল-আমিন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।

জেলার পুলিশ সুপার জানান, খুলনার তেরখাদা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোন এবং দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের বাথরুমের প্যান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. কামরুল খান (৪৪)। তিনি খুলনার তেরখাদা উপজেলার নয়াবরসাত গ্রামের মৃত করিম খানের ছেলে।

জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট আশুলিয়ার বাসাইদ এলাকায় রাজু সিটির সামনে একটি ভাড়া বাসা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে বাড়ির মালিক পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ তালা ভেঙে গলাকাটা পচনধরা লাশ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পিবিআইয়ের ক্রাইম-সিন টিম ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির সাহায্যে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। এই ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করলে পিবিআই স্ব-উদ্যোগে তদন্তের দায়িত্ব নেয়।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ আগস্ট পিবিআই খুলনা ও ঢাকা জেলার যৌথ অভিযানে খুলনা থেকে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কামরুল ও আল-আমিন পূর্বপরিচিত এবং গত ৮ আগস্ট তারা একসাথে আশুলিয়ায় এসে ঘর ভাড়া নিয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন। গত ১৪ আগস্ট রাতে কাজের টাকা শেষ হয়ে যাওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে কামরুল সবজি কাটার ছুরি নিয়ে আল-আমিনকে আঘাত করতে গেলে ধস্তাধস্তির সময়ে আল-আমিন ছুরিটি কেড়ে নিয়ে কামরুলের গলায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই কামরুল মারা যান। এরপর আল-আমিন বাথরুমের প্যানে ছুরিটি ফেলে দরজায় তালা দিয়ে খুলনায় পালিয়ে যান।

আসামি ঘর ভাড়ার সময় মালিক কোনো পরিচয়পত্র না রাখায় আসামির তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে পিবিআই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দ্রুতই ঘাতককে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃত আল-আমিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন