জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের লং মার্চ থেকে সরকারকে বুঝানো হবে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হলে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। কেউ যদি লং মার্চে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করে তাহলে জনস্রোতে সেই বাধা ভেসে যাবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নগর জামায়াতের কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবি জোরালো করার লক্ষ্যে শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ হিসেবে বিকেল ৫টায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস সংকট, সারের সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকীর্ণ দলীয়করণ সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলেছে। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছে, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের প্রশ্নে এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনিষ্পন্ন রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্য এই লংমার্চ ও সমাবেশের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতা মুহাম্মদ শাহজাহান লং মার্চের দাবিগুলো তুলে ধরেন। এগুলো হলো, প্রথমত অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের মতামত ও গণরায়কে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা নিহত ও আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় তিনি চট্টগ্রামবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ও লালদিঘী ময়দানের সমাবেশে শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই একটি জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের যেই প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সংকটে আমরা শতশত ট্রাক নিয়ে লং মার্চ করছি। তিনি মূলত সংকটের কথা স্বীকার করেছেন। সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দল সরকারের অংশ। কাজেই আমরা বিশ্বাস করি তারা আমাদের মতপ্রকাশে বাধা দেবে না এবং সকল সহযোগিতা করবে। কারণ ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় হয়েছে। আমরা সরকারকে ফ্যাসিস্ট রুপে দেখতে চাইনা। জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করিয়ে ছাড়ব। তিনি অভিযোগ করেন, সর্বত্র দলীয়করণ করে সরকার সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। তারা সংস্কারের অধ্যাদেশগুলো নিজেদের স্বার্থে বাতিল করেছে।
এই লংমার্চ ফেনী থেকে ৫০০ গাড়ি ও ঢাকা থেকে হাজারের বেশি গাড়ি গাড়িবহরে যোগ দেবে বলে জানান মুহাম্মদ শাহজাহান। একইসাথে কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকেও মিনি লং মার্চ করে নেতাকর্মীরা চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জড়ো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাতকানিয়া-লোহাগড়া আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা শাহজাহান চৌধুরী, মহানগর আমীর নজরুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, এনসিপির মহানগর সেক্রেটারি মীর মোহাম্মদ শোয়াইবসহ ১১ দলীয় নেতৃবৃন্দ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

