ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের মূল গ্যাস নেটওয়ার্কে আনতে অন্তত সাত বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে কাজে লাগিয়ে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। সেখানে একটি সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য সুলতানা আহমেদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিকেল তিনটায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হলে প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
সুলতানা আহমেদ জানতে চান, নতুন এলএনজি টার্মিনালগুলো চালু হওয়ার আগের সময়ে শিল্প ও রপ্তানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন ধরে রাখতে ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডের পাইপলাইন গ্রিডে যুক্ত করা বা জরুরি ভিত্তিতে অন্য কোনো উপায়ে সরবরাহের পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে আনতে চাইলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্তত সাত বছর সময় লাগবে। এ কারণে ভোলাতেই গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি উদ্যোক্তা সেখানে শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এর ফলে ভোলায় কর্মসংস্থান বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতির আকারও বড় হবে বলে আশা করছি।
তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস দেশের মানুষের স্বার্থে কাজে লাগাতে সেখানে একটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও করছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ভোলার গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে মূল ভূখণ্ডে এনে আগ্রহী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ভোলার ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে নেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে।
এর আগে সরকারি দলের সদস্য সুলতানা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনসহ ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। আকস্মিক বা সাময়িক গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পখাত যাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে, সে জন্য দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন ও গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, ২০৩০–২০৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি কূপ খনন, ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত বিড দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি–২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে কমবেশি দৈনিক গড়ে ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকটে শিল্পখাত যাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ীর ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলের সুবিধাজনক কোনো স্থানে জরুরি ভিত্তিতে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আকস্মিক গ্যাস সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত সরবরাহ সক্ষমতা তৈরি হবে বলে মনে করি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


