এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি

ধর্ম কিংবা রাজনৈতিক কারণে বরাদ্দে বৈষম্য করা যাবে না

ধর্ম কিংবা রাজনৈতিক কারণে বরাদ্দে বৈষম্য করা যাবে না
ছবি: আমার দেশ

রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, বিশেষ কোনো ধর্ম কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে সরকারি বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করায় আমি বিশ্বাসী নই। সরকারি বরাদ্দ যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার যোগ্য, তার কাছেই তা পৌঁছে দিতে হবে। আমরা একটি ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ চাই। তাই সরকারি বরাদ্দে কোনো বৈষম্য করা যাবে না।

মঙ্গলবার বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়নের গুটিরডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষকরা তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব পেশ করেন। এ সময় তারা বিগত সরকারের আমলে বিভিন্নভাবে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেন।

শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন মানেই এলাকার মানুষ ও দেশের উন্নয়ন। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এটিএম আজহার বলেন, গত দেড় দশকে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৭ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। অনেকেই বলেন বাংলাদেশ গরিব দেশ। তবে আমি এটি মানতে রাজি নই। বাংলাদেশের আসল সমস্যা দুর্নীতি। দুর্নীতি না হলে বাংলাদেশ আজ সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ার চেয়েও বেশি উন্নত হতে পারত।

তিনি বলেন, আমি জানি, আপনারা গত ১৭ বছরে বিভিন্নভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন এবং সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনেকে তাদের প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তবে আমি একটি ওয়াদা করেছি—অবৈধ বা দুর্নীতির একটি টাকাও আমার পেটে ঢুকবে না। সরকারি বরাদ্দ কিংবা বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে যে সহযোগিতা আনা সম্ভব হবে, তা যেখানে বা যে ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পাওয়ার যোগ্য, সেখানেই পৌঁছে দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আপনাদের খেদমত করতে পারি।

তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দ বণ্টনের ক্ষেত্রে ধর্ম কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় কোনোভাবেই বৈষম্যের কারণ হতে পারে না। যোগ্যতা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে সবার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। পড়াশোনার পাশাপাশি শরীর ও মন সুস্থ রাখতে নিয়মিত খেলাধুলা করার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে বাবা-মা ও শিক্ষকদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করার আহ্বান জানান।

কিশোর ও তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শাহ মুহাম্মাদ রুস্তম আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

পরে এটিএম আজহারুল ইসলাম মধুপুর ইউনিয়নের ময়নাকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরও একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

এদিন অনুষ্ঠিত দুটি পৃথক কর্মসূচিতে বদরগঞ্জ উপজেলার মোট ২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে ফুটবলসহ ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন