রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে আরও ১০ জেলা: মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে আরও ১০ জেলা: মন্ত্রী

দেশের আরও ১০ জেলা রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা জানান।

বিজ্ঞাপন

ঢাকার পার্শ্ববর্তী এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলের দশ জেলা রেল সেবা সম্প্রসারিত হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তবে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের থেকে জানা গেছে- শেরপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলা রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে।

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এবং সভাপতিত্বে আজকে রেল মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ কার্যক্রম এবং সামগ্রিক কানেক্টিভিটি, সামগ্রিক সেবা কি পর্যায়ে আছে এবং উত্তরণের জন্য কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, কি কার্যক্রম চলমান আছে এবং আগামীতে কি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে- সে বিষয়ে একটা মিটিং ছিল। প্রধানমন্ত্রী সেটা জেনেছেন, দেখেছেন, বুঝেছেন এবং তার মতামতও যুক্ত করেছেন। সেই সামগ্রিক যোগাযোগ কানেক্টিভিটি এবং সেবার মান নিয়ে একটা পর্যালোচনা পূর্বক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই আমরা বড় কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চলেছি যেমন: আখাউড়া-সিলেট, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া সেটা তো আছেই, অ্যাট দা সেম টাইম আমাদের ধীরাশ্রমে একটা আইসিডি কন্টেইনারের প্রকল্প ইতিমধ্যে পাশ হয়েছে এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার যে রাস্তা সেটা কিছু মিটারগেজ কিছু হচ্ছে আপনার ব্রডগেজ।'

‘মিটারগেজ যেখানে আছে বিশেষ করে টঙ্গী থেকে আখাউড়া এবং লাকসাম থেকে সিলেট এতটুকু মিসিং লিংক আছে, সেটা ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন হবে। সেই ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে, অ্যাট দা সেম টাইম ঢাকা থেকে কুমিল্লা একটা কর্ড লাইন এটাও খুব জরুরি সে ব্যাপারেও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা বাস্তবায়ন করবার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করার তাগাদা এসেছে।’

বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল ৬৪ জেলাকেই আমরা রেল যোগাযোগের সাথে যুক্ত করতে চাই। সেই লক্ষ্যে নতুন আরও ১০টি জেলাকে কিভাবে রেল সংযোগ বা রেল যোগাযোগ বা রেল সেবা নিশ্চিত করা যায় সে ব্যাপারে রেল লাইন এবং তার সার্ভিস প্রসারিত করবার জন্য প্রকল্প গ্রহণের তাগাদা এসেছে। সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য আগামী দিনের সম্ভাব্য প্রেজেন্টেশন, সম্ভাব্য রেল লাইন, এটা আমরা উপস্থাপন করেছি। তার মানে আরও ১০টা জেলা যুক্ত করতে চাইবো।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকার চাচ্ছেন এবং চাইবেন এবং তা বাস্তবায়ন করবার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করবে। এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে আর কি। না, যেগুলি আছে সেটা তো আছেই। যেখানে একেবারেই নেই, যেমন: মানিকগঞ্জ, ঢাকার কাছে, নেই। তো আমরা চাচ্ছি যে যেহেতু কমিউটার ট্রেন চালুর একটা ব্যবস্থা আমাদের অঙ্গীকার আছে, যেমন: ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-টঙ্গী, জয়দেবপুর, অ্যাট দা সেম ঢাকা-মানিকগঞ্জ, ঢাকা-নরসিংদী, তো মানিকগঞ্জ ট্রেন যোগাযোগ নেই। তো আমরা ঢাকা-মানিকগঞ্জ এটা করার একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে কমিউটার ট্রেন, মানে ঢাকা থেকে মানুষ তার ব্যবসা, কর্ম সবকিছু ছেড়ে পাশের জেলাগুলিতে দ্রুততম সময় আসতে পারে এবং যেতে পারে কাজ সেরে। এই ধরনের একটা কানেক্টিভিটি করার চিন্তা আছে।

ঢাকা থেকে কুমিল্লা কর্ড লাইন নিয়ে নতুন করে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটা ভাবনা ছিল আর আমরা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। এটা হল পার্থক্য। কর্ড লাইনটা দরকার, প্রায় ৮০ থেকে ৮২ কিলোমিটার পথ কমে যায় এটা আমরা সবসময় শুনছি। কিন্তু এটা বাস্তবায়ন করবার জন্য প্রকল্প গ্রহণের তাগাদা এসেছে, দিস ইজ দা ডিফারেন্স।

তিনি বলেন, ‘বিগত আমলে যে কাজগুলি হয়েছে, সেখানে রেল লাইন হয়েছে ক্যারেজ বা লোকোমোটিভের কোন সন্ধানই নেই। আমরা এবার সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি সম্পূর্ণভাবে। ডিপিপি পাস হওয়ার সময়ই ট্রেন লাইন হবে, অ্যাট দা সেম টাইম লোকোমোটিভ এবং ক্যারেজ আয়োজন ওই ডিপিপির মধ্যেই থাকবে, এর জন্য আলাদা প্রকল্প না, সমন্বিত প্রকল্প হবে। যাতে ট্রেন লাইনটা নির্মাণ শেষ হলো, একই সাথে সাথেই ট্রেন চলাচল শুরু করল, এ রকমভাবে হবে প্রজেক্ট। যেগুলি আসবে সবগুলি প্রজেক্টই ওই বিবেচনায় হবে, বিচ্ছিন্নভাবে হবে না। লাইন, ক্যারেজ (বগি) আর লোকোমোটিভ (রেল ইঞ্জিন) ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প, ভিন্নভাবে বাস্তবায়িত হবে না, সমন্বিতভাবে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন