প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

পদ্মা ব্যারেজ সম্পন্ন হলে দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যোগ হবে

পদ্মা ব্যারেজ সম্পন্ন হলে দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যোগ হবে
‘পদ্মা ব্যারেজ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ গোলটেবিল আলোচনা সভা। ছবি: আমার দেশ

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘পদ্মা ব্যারেজ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী।

বিজ্ঞাপন

ড. তিতুমীর বলেন, বিগত বিভিন্ন সময়ে পানিসম্পদ নিয়ে অনেক রূপরেখা ও আলোচনা হলেও দেশের প্রকৃত বাস্তবতা ও জনগণের চাহিদাকে সবসময় অগ্রাধিকার দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, সংরক্ষিত এই পানি কেবল কৃষি ও সেচকাজেই ব্যবহৃত হবে না, বরং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রকল্প থেকে আনুমানিক ১১৩ মেগাওয়াট পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া নদীর তীরবর্তী এলাকায় টেকসই নগরায়ণের অংশ হিসেবে ৭টি আধুনিক টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটির কৃষি ও নদী পুনরুজ্জীবনে পদ্মা ব্যারেজের প্রভাব তুলে ধরে এই উপদেষ্টা বলেন, শুষ্ক মৌসুমে হিসনা, মাথাভাঙ্গা, গড়াই, মধুমতি, চন্দনা, বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদীর প্রবাহ টিকিয়ে রাখতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা এবং রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ৪৬ দশমিক ৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে নিয়মিত সেচসুবিধা নিশ্চিত হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা এবং আর্সেনিক দূষণ প্রসঙ্গে রাশেদ তিতুমীর বলেন, বর্তমানে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় মিষ্টি পানির যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে এই ব্যারেজ বড় অবদান রাখবে। নদীর স্বাভাবিক মিষ্টি পানির প্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের ইকোসিস্টেম, বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে। একই সঙ্গে নদীগুলোর পলি অপসারণ, ভবদহের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ সম্ভব হবে।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে প্রকল্পের প্রথম পর্যায় এবং ২০৩৩ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন, জাস্টিস ও ফেয়ারনেস বজায় রেখে দেশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন