জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান

জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বৈষম্যহীন, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। বিএমইউর ডেন্টাল ফ্যাকাল্টির ডিন ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং আলোচনা সভা কমিটির সদস্য ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম, গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধার বাবা অধ্যাপক ডা. জাকারিয়া আজিজ, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

এছাড়া জুলাই শহীদদের স্মরণে ও দেশ ও জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধ কামনায় দোয়া মোনাজত করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কোনো কঠিন সময়েই নতজানু হননি, আপস করেননি, চরম নির্যাতনের সময়কালেও তিনি ছিলেন অবিচল ও দৃঢ়চেতা মনের অধিকারী। তিনি মৃত্যুর আগে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন দেখেছেন সেটা একটি বিরাট প্রাপ্তি। দেশনেত্রীর মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান চিকিৎসক হিসেবে তার সংস্পর্শে থাকার পরম সুযোগ ও সৌভাগ্য হয়েছে। বিগত ১৭ বছর জিয়া পরিবার যে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তা আরো কোনো পরিবারের হয়নি, যা আমি কাছ থেকে দেখেছি।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন সংগ্রাম আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে স্বৈরাচারমূলক ও ফ্যাসিবাদী আচরণ, আক্রমণ, হামলা, নির্যাতন চালিয়ে কোনো সরকারই বেশি দিন টিকতে পারে না। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে যারা দৃশ্যমান অন্যায় করেছেন তারা যেন বর্তমানে কোনো সুযোগ সুবিধা না পায় তা সর্বত্রই নিশ্চিত করতে হবে। কারণ অন্যায়কারীকে শাস্তি পেতেই হবে।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার নির্যাতনকে শৈল্পিক রূপ দিয়েছিল। বর্তমানে তারা আবার তর্জন, গর্জন, হুংকার দিচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান হলো দেশের সকল জনগণের আন্দোলনের ফসল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, সেটা সবার স্মরণে রাখতে হবে।

শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, জুলাই শহীদদের দেশের মানুষ আবেগ দিয়ে ভালোবাসেন সেটা দেখে ভালো লাগে। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হলে অবশ্যই বৈষম্য বিরোধী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। একই সাথে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সততা, মেধা ও যোগ্যতার যেন মূল্যায়ন হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। টাকা দিয়ে চাকরি পাওয়ার যে অঘোষিত অনৈতিক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলছে তার অবসান ঘটাতে হবে।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে যে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি চলেছিল তার বিরুদ্ধেই বৈষম্যবিরোধী গড়ে উঠেছিল। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে একটি বৈষম্য বিরোধী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সততা ও দায়িত্বশীলতার সাথে পালন করতে হবে।

বিএমইউর ডেন্টাল ফ্যাকাল্টির ডিন ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা কমিটির সম্মানিত সদস্য ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ বলেন, জুলাই আন্দোলনে আমি নিজে জেলে ছিলাম। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট আমি মুক্তি পাই। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার যে ভয়াবহ নৃশংসতা, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, গণহত্যা চালিয়েছে তা ভোলবার নয়।

রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশে সন্ত্রাসীর রাজত্ব কায়েম করেছিল। জুলাই হলো গণ মানুষের অনুভূতির বিষয়। জুলাই অনুভূতিকে ধারণ করে বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনা সভায় বিএমইউর সার্জারি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. মো. ইব্রাহীম সিদ্দিক, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. ইরতেকা রহমান, চিফ এস্টেট অফিসার ডা. মো. এহতেশামুল হক তুহিন, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসান (রতন), সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা কমিটির সদস্য সচিব দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাইফুল আজম রঞ্জু, সহযোগী অধ্যাপক ও উপ-রেজিস্ট্রার (আইন) ডা. আবু হেনা হেলাল উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) নাছির উদ্দিন ভূঁঞা, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মোহাম্মদ বদরুল হুদাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নার্স এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন