সংস্কার কমিশনগুলো জনগণের অভিপ্রায় বুঝতে ব্যর্থ: ফরহাদ মজহার

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

সংস্কার কমিশনগুলো জনগণের অভিপ্রায় বুঝতে ব্যর্থ: ফরহাদ মজহার

সংস্কার কমিশনগুলো জনগণের অভিপ্রায় বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে মন্তব্য করেছেন কবি ও গবেষক ফরহাদ মজহার। সোমবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিলকিছ আলম পাঠাগারের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সমাজ গঠন ও বই পড়া প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে এ কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, জনগণই সকল ক্ষমতার অধিকারী। তাই জনগণের সম্মতি ছাড়া কেউ নিজেকে শাসক হিসেবে দাবি করতে পারে না। জনগণের অনুমতি ছাড়া কোনো আইন পাশ হতে পারে না। এটাকেই বলে জনগণের ক্ষমতা ও গণ-স্বার্বভৌমত্ব।

শেখ হাসিনার দুঃশাসনকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, স্বৈরশাসক ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন পাস করেছে, সংবিধান বদলে দিয়েছে। যদি গণ-স্বার্বভৌমত্ব থাকে তাহলে এটা তিনি করতে পারেন না। জনগণের পরামর্শে কাজ করতে হবে। তার ব্যত্যয় ঘটলে জনগণ গণঅভ্যুত্থান ঘটায়।

তিনি আরও বলেন, ‘ড. ইউনুছ গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় এসেছে। গঠন করেছে অনেকগুলো কমিশন। কমিশনের লোকেরা উপরে বসে বসে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্কারের প্রস্তাবনা করতেছে। এদের কাদের সঙ্গে আলাপ হচ্ছে। তারা জনগণের অভিপ্রায় বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে?’

মাওলানা মোহাম্মদ নুরুল আলম খানের সভাপতিত্বে ও কবি ইমরান মাহফুজের সাঞ্চলনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক এইচ আর হারুন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক সাহাব উদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আগা আজাদ চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ, চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম মীর হোসেন।

আলোচক হিসেবে ছিলেন কবি, গবেষক ও সাংবাদিক ড. কাজল রশীদ শাহীন, মোহাম্মদ রোমেল, শিশু সাহিত্যিক মামুন সারওয়ার, লেখক ও সাংবাদিক আবিদ আজম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফেনী সিটি কলেজের প্রভাষক এয়াছিন পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মেজর জেনারেল (অব) অধ্যাপক এইচ আর হারুন বলেন, আজকের প্রজন্মের একটা অংশ বই থেকে দূরে। আমাদের অভিভাবক শিক্ষক সমাজের সবার উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের বইয়ের মধ্যে আনা জরুরি। না হলে আমাদের আগামী অন্ধকার।

বিশিষ্ট ব্যাংকার আগা আজাদ চৌধুরী বলেন, চৌদ্দগ্রাম মাদকের ভয়াল থাবায় আক্রান্ত। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মৈত্রী দরকার। দরকার প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবকদের কঠোরতা। না হলে চৌদ্দগ্রাম শেষ হয়ে যাবে।

সাংবাদিক ড. কাজল রশীদ শাহীন বলেন, কেবল মাত্র বই পড়ে একজন ব্যক্তি যে কোন কিছু হতে পারে। ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার, দক্ষ প্রশাসক হতে গেলেও বই পড়া ছাড়া বিকল্প নেই।

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সমাজ রাষ্ট্রের সঙ্কট মোকাবিলা করতে পাঠাগারের ভূমিকা অসামান্য। বিলকিস আলম পাঠাগারের উদ্যোগে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে এবং এই প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ীরূপ দেয়ায় রাষ্ট্রের ভূমিকা জরুরি।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, আজকের সামাজিক সঙ্কটের দায় সবার। সমাজ ভেঙে পড়েছে সম্মিলিত ব্যর্থতায়। তাই সবার আন্তরিকতা, সততা ও গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে এ সমাজ দাঁড়াতে পারে নতুনভাবে। চৌদ্দগ্রামে অনেক

গুণি মানুষের জন্ম। তাদের পদচারণা এ সমাজের জন্য সহায়ক। আমি আহ্বান করবো, ওনাদের মেধা ও গুণের সমাহার তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিষয়: