মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষ -২০২৬ উপলক্ষ্যে মৎস্য খাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ১৪ জন উদ্যোক্তাকে সারা দেশ থেকে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের হাতে গোল্ড মেডেল তুলে দেবেন।
শনিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জে এসে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ অবমুক্ত করবেন। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। শিক্ষার্থীদের বই বহনের জন্য স্কুলব্যাগ দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।” এছাড়া কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম- মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান কার্যক্রমও শুরু হবে বলে জানান তিনি ।
জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি সাধারণত ঢাকায় আয়োজন করা হলেও এবার কিশোরগঞ্জে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের কারণ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “এটাই সরকারের ভিন্নতা- জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। জনগণ যেখানে, সরকার সেখানে।” তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জ দেশের মৎস্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মৎস্য খাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এদিন উদ্যোক্তাদের গোল্ড মেডেল দেওয়া হবে। সাধারণ আনুষ্ঠানিকতার বাইরে উৎপাদনের মাঠে গিয়ে তাদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দিতে চায় সরকার।
হাওরে মাছের মৌসুম চললেও বিভিন্ন বাজারে মাছের বেচাকেনা আগের তুলনায় কমে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, হাওরাঞ্চলে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টি সরকারও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি বলেন, “হাওর অঞ্চলে দিনে দিনে মাছ কমে যাচ্ছে- এটা আপনি যেমন অনুভব করছেন, সরকারও সেটা অনুভব করছে।” মাছের উৎপাদন বাড়াতে দেশের হাওর, খাল-বিল ও সমুদ্র এলাকায় অভয়াশ্রম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব অভয়াশ্রমে মাছের প্রজনন ও বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের আর কোথাও যেন অবৈধ জাল উৎপাদন করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার যথেষ্ট সচেতন রয়েছে।” নিষিদ্ধ জালের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এসব জালের কারণে শুধু বড় মাছ নয়, মাছের পোনা ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীও ধ্বংস হচ্ছে।
দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, অবৈধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে সরকার যেমন অভিযান পরিচালনা করবে, তেমনি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, আপনাদের সামনে যদি এ ধরনের কোনো অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার করতে দেখেন, তাহলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তাদের বাধা দিন এবং প্রতিহত করুন।
মতবিনিময় সভায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আল, কিশোরগঞ্জ-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন- সহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


