ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে টানা ছুটি উপলক্ষে সরকার বুধবার ও বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার। বন্ধ থাকবে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি অফিস। নগদ, বিকাশ, রকেটের মতো মোবাইল ব্যাংকিংগুলোও বন্ধ থাকছে এবার। ছুটির মধ্যে হঠাৎ চিকিৎসা, ভ্রমণ, কেনাকাটা বা জরুরি প্রয়োজনের টাকার দরকার হতে পারে অনেকের।
এমন পরিস্থিতিতে ডিজিটাল আর্থিক সেবার কিছু বিষয় মাথায় রাখলে টাকার প্রয়োজন সামলিয়ে উঠতে পারবেন।
সাধারণত ছুটির দিনগুলোতে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসগুলো ভরসার জায়গা। এসব সেবার মাধ্যমে টাকা পাঠানো, গ্রহণ করা, বিল পরিশোধ কিংবা প্রয়োজন হলে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে দ্রুত টাকা নেয়া সম্ভব।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে লেনদেনে মোবাইল ব্যাংকিং এ সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। গত রোববার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে ভোটের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত একসঙ্গে এক হাজার টাকার বেশি টাকা পাঠানো যাবে না এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করা যাবে। ফলে দোকান, সুপারশপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কেনাকাটা করার জন্য পেমেন্ট সেবা চালু থাকছে। আপনার প্রয়োজন মেটাতে নগদ টাকা না থাকলেও ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা যাবে।
মোবাইল ব্যাংকিং এর বাইরে নগদ টাকার আরেকটি বড় উৎস হলো এটিএম। ছুটির দিনেও ২৪ ঘন্টা চালু থাকে এটিএম সেবা। অনেক সময় লম্বা ছুটিতে বুথে টাকা ফুরিয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়তে হয়। তাই আগে থেকেই আপনার আশপাশের একাধিক এটিএম বুথের অবস্থান জেনে রাখা ভালো। কোন একটি বুথে টাকা না পেলে অন্য বুথে গিয়ে টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সবচেয়ে ভালো হয় ছুটি আগেই অতিরিক্ত নগদ টাকা তুলে রাখা।
জরুরি পরিস্থিতিতে ক্রেডিট কার্ড হতে পারে একটি বিকল্প ব্যবস্থা। তবে এটি ব্যবহারের আগে বিল পরিশোধের সময়সীমা ও সুদের হার ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি। চিকিৎসা ব্যয়, হঠাৎ ভ্রমণ বা বড় অঙ্কের কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যায়। সময়মতো বিল পরিশোধ না করলে সুদের চাপ বেড়ে যেতে পারে, যা পরে আর্থিক বোঝা তৈরি করবে।
নগদ টাকার ঝামেলা এরাতে ডিজিটাল বিল পরিশোধ ও অনলাইন কেনাকাটার কথা মাথায় রাখতে হবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ইন্টারনেট কিংবা মোবাইল ফোনের বিল এখন সহজেই অনলাইনে দেয়া যায়। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবা চালু রাখা সম্ভব হয়। লম্বা ছুটি বা অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে হঠাৎ টাকার প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে আগে থেকেই একটি জরুরি তহবিল গড়ে তোলার পরিকল্পনা থাকতে হবে। তবে নিরাপত্তার বিষয়টিও ভাবতে হবে।
জরুরি সব প্রয়োজনে টাকার দরকার হতেই পারে তবে অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণ করাও অত্যন্ত জরুরি। ছুটি দিনে অতিরিক্ত খরচের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এসব বিষয় নিয়ে বছরের শুরুতেই একটা পরিকল্পনা করে বাজেট ঠিক করে নিলে ভালো। দেখা গেছে উৎসব কিংবা দীর্ঘ ছুটির সময়ে পারিবারিক খরচ স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। আমাদেরকে এসব মানসিকতা থেকে বের হতে হবে। তাহলে ছুটির দিনগুলো মানসিক চাপের পরিবর্তে আনন্দময় হয়ে ওঠবে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

