আলোচনা সভায় বক্তারা

অ্যাক্টিভিস্টদের কালো হাতের প্রভাবে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না

স্টাফ রিপোর্টার

অ্যাক্টিভিস্টদের কালো হাতের প্রভাবে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না

দেশের বিচারব্যবস্থা বর্তমানে অতি রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে। অ্যাক্টিভিস্টদের কালো হাতের প্রভাবে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। ফলে বিচার ব্যবস্থার উন্নতির দিকে সরকার নজর না দিলে আরেকটা আন্দোলন হতে পারে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত আইনজীবীদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের যত প্রকার সমস্যা সমস্যা লিটিগেশন সোশ্যাল রয়েছে এগুলো পরিসংখ্যান করে দেখা গেছে এই সমস্যার প্রধান কারণ হলো আইন অঙ্গনে, বিচার অঙ্গনে কোনো বিচার ব্যবস্থা ভালোভাবে না কর। যথাসময়ে বিচার না হওয়ার কারণে একটার পর একটা সামাজিক ব্যাধি হিসাবে এই মামলা উৎপন্ন হচ্ছে।

এ সময় বিচারপতি শহিদুল ইসলাম বলেছেন, দেশে এখনো অনেক মেধাসম্পন্ন বিচারক রয়েছেন। তাদের সঠিকভাবে কাজ করতে দেওয়া হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। কিন্তু অ্যাক্টিভিস্টদের কালো হাতের প্রভাবে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য অবশ্যই একটা উপযুক্ত বাজেট এখানে প্রয়োজন। এ খাতে যদি সরকার গুরুত্ব না দেয়, তাহলে কিন্তু আবারও একটা আন্দোলন হতে পারে।

অ্যাডভোকেট আব্দুল রাজ্জাক বলেন, কোর্ট অঙ্গনে, আইন অঙ্গনে ঘুষের কারবার এমন ভাবে হয় যে, বলা হয় সকালবেলা কোটের ইট গুলা হ্যাঁ করে, সেখানে টাকা দেওয়া হয়। সূর্য ডোবার আগে আবার ইট গুলো বন্ধ হয়। তার মানে এই পরিমাণ ঘুষের কারবার আইন অঙ্গনে কোট অঙ্গনে হচ্ছে। তাই বিচার ব্যবস্থা থেকে এসব প্রতিহত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি যেটা বলতে চাই আইনজীবীদের বাজেটের ব্যাপারে বাংলাদেশ লয়ার্স কাউন্সিল যে উদ্যোগ নিয়েছে এটা বাস্তবায়নের জন্য এই সংগঠনের বাইরেও সবাইকে আওয়াজ তুলতে হবে।

বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় জয়েন সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে না পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত এখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে না। সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা। গত অন্তর্বর্তী সরকার যেটা শুরু করেছিলেন সেটাও আজকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই সরকার আমাদের বলে জুলাই বাস্তবায়ন করতে হবে, আবার গণভোট বাতিল করবে। তারা বলে, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে আবার সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় বাতিল করে। এভাবে না কি তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে।

এর আগে অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ তার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক বাজেটের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রশাসনিক সংস্থান সরবরাহ করা উচিত। তিনি বিচার বিভাগের জন্য বাজেটে ১১টি শিরোনামে বরাদ্দ দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ ল'ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলীর পরিচালনায় সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ল'ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন, বাংলাদেশ ল'ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. সাইফুর রহমান, কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. গোলাম রহমান ভূঁইয়া প্রমুখ।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...