তজুমদ্দিনে দুই মাস ধরে অন্ধকারে মানুষ

তজুমদ্দিনে দুই মাস ধরে অন্ধকারে মানুষ
ছবি: আমার দেশ

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের আড়ালিয়া গ্রামের পাটওয়ারী কান্দির ২০ পরিবারের অন্তত দুই শতাধিক মানুষ বাস করছেন অন্ধকারে। গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎবিহীন জীবনযাপন করছেন তারা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে সংযোগ পুনঃস্থাপন না হওয়ায়, অন্ধকারে বাস করছেন পরিবারগুলো। অর্থাভাবে সংযোগ না পাওয়ায়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দিতে পারছেন না কেউ কেউ। ফলে এসব পরিবারের অনেকেই কর্মক্ষম হয়ে পড়েছেন। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায়, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবারগুলো।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর ধরে নতুন শিকদার বাড়ি, তেলি বাড়িসহ আশপাশের প্রায় ২০টি পরিবার ওই রুটের মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুতের সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন। গত ২৬ মে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে রাস্তার একটি গাছ বৈদ্যুতিক তারের ওপর পড়ে লাইন ছিঁড়ে গেলে বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুনরায় সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করলে একই এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন তার বসতবাড়ির ওপর দিয়ে পুনরায় বিদ্যুৎ লাইন টানতে বাধা প্রদান করেন।

বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া ঘটনাস্থলের জমির মালিকের আপত্তি ও অশালীন আচরণের মুখে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা নিরাপত্তাজনিত কারণে সংযোগ পুনঃস্থাপন না করেই চলে যান। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জয়নাল আবেদীনের কাছে সংযোগ স্থাপনের জন্য একাধিকবার অনুরোধ জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন তারা।

তজুমদ্দিন উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার হামিদুর রহমান বলেন, লাইনটি অনেক পুরোনো। নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ লাইনের নিচে কোনো বসতঘর নির্মাণের সুযোগ নেই।

তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, বিকল্প সংযোগ স্থাপনে খুঁটি ও অন্যান্য সরঞ্জাম বাবদ প্রায় ৬৫ হাজার টাকা প্রয়োজন। হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই খরচ বহন করা সম্ভব না হওয়ায়, এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়সহ অসহায় এই বাসিন্দারা।

নতুন সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় দুটি খুঁটির মধ্যে একটি খুঁটি নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের বিনামূল্যে প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলে মুঠোফোনে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বনি আমিন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন