চট্টগ্রামের পটিয়ায় ‘জুলাই অভ্যুত্থান'-এ অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একদল শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারসহ চার দফা দাবিতে বুধবার রাত ৮ টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পটিয়ায় পুলিশ বাহিনী যে হামলা চালিয়েছে, তা শুধুই একটি ছাত্র সংগঠনের ওপর নয়- এটি জুলাই বিপ্লবের চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত। এ আঘাত ক্ষমার অযোগ্য।
সেখানে সূর্যসেন হলের ২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী শাহেদ ইমন বলেন, অভ্যুত্থানে যারা মৃত্যু মুখে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছে, তাদেরকে গুপ্ত হামলা করে রুখে দেওয়া যাবে না। যারা আজও আমাদের হুমকি দেয়, তারা জেনে রাখুক- আমরা থামবো না। হাসিনার পুলিশ বাহিনী এখনো বদলায়নি, আগের মতোই দমন-পীড়নের পথেই আছে।
তিনি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উপস্থাপন করেন:
১. ওসি জাহেদুলসহ হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের স্থায়ী বহিষ্কার ও গ্রেফতার।
২. আহত বিপ্লবীদের সুচিকিৎসা ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণ।
৩. দেশের প্রতিটি থানা, উপজেলা ও ইউনিয়নে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার।
৪. ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে দ্রুত ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাবি শিক্ষার্থী আশিক খান। তিনি বলেন, এ সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো- পুলিশ বাহিনীর ভেতরে থাকা গাদ্দারদের এখনও চিহ্নিত করতে না পারা। এই পুলিশ লীগ সংস্কার না করে কোনো গণতন্ত্র টিকবে না। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও পুলিশ বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানান।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলা মানেই জনগণের ওপর হামলা। আমরা জানিয়ে দিচ্ছি, যদি বিচার না হয়, তবে আবার আমরা জুলাই ফিরিয়ে আনব। তিনি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছে আন্দোলনকারীরা। এতে অন্তত ৪০-৪৫ জন আহত হন।
ঢাবি শিক্ষার্থীরা জানান, এ হামলার মাধ্যমে সরকার আবারও প্রমাণ করেছে, তারা ভিন্নমত সহ্য করতে প্রস্তুত নয়। এ সময় চার দফা দাবির বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

