মহাসড়কে গতিনিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান দাবি নিসচার

যোগাযোগ খাতে মার্কিন বিনিয়োগ-সহায়তার আশা মন্ত্রীর, দৃঢ় প্রত্যয় রাষ্ট্রদূতের

স্টাফ রিপোর্টার

যোগাযোগ খাতে মার্কিন বিনিয়োগ-সহায়তার আশা মন্ত্রীর, দৃঢ় প্রত্যয় রাষ্ট্রদূতের
ছবি : সংগৃহীত

দেশের যোগাযোগ খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতকে আরো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তারা এমনটি জানান। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে বাংলাদেশের সড়ক, রেল ও নৌ-যোগাযোগ খাতের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়। এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের যোগাযোগব্যবস্থাকে আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, সড়ক নিরাপত্তা, আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় দেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, দুর্ঘটনা হ্রাসে করণীয় ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার ইতোমধ্যে বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, মহাসড়কে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু, ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণ জোরদার ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার জন্য কাজ চলছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম, গণমাধ্যমে প্রচারণা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সম্পৃক্ততা সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি নিরাপদ সড়ক চাই-এর কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

নিসচা প্রতিনিধিদল বলে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কে গতিনিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান, চালকদের প্রশিক্ষণ উন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা জরুরি। পাশাপাশি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিতকরণ ও জনসচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান তারা।

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী প্রতিনিধিদলের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন বলে জানান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...