৮২ হাজার বন্দির উৎসবমুখর ঈদুল আজহা উদযাপন

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

৮২ হাজার বন্দির উৎসবমুখর ঈদুল আজহা উদযাপন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের ৭৪টি কারাগারে প্রায় ৮২ হাজার বন্দি উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদযাপন করেছেন। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ জামাত, উন্নত খাবার এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বন্দিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কারা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় দেশের বিভিন্ন কারাগারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাত শেষে বন্দিরা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে তাদের পায়েস ও মুড়ি পরিবেশন করা হয়। ঈদের দিন দুপুরে বন্দিদের জন্য পোলাও, রোস্ট, গরু ও খাসির মাংস, চমচম, কোমল পানীয়, পান-সুপারি ও সালাদ রাখা হয়েছে। রাতের খাবারে সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজা ও আলুর দম পরিবেশন করা হবে।

কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের স্বজনদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য ফ্রি জুস কর্নার, শিশুদের জন্য চকলেট ও চিপস বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বন্দিদের পরিবারের সঙ্গে অতিরিক্ত সাক্ষাৎ ও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে জুলাই-আগস্টের ঘটনাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলায় আটক ১৩০ জন বিশেষ বন্দিও ঈদের এসব সুবিধা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সালমান এফ রহমান, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, আনিসুল হক, জুনাইদ আহমেদ পলকসহ বিভিন্ন সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

কারা সূত্র জানায়, পরিবারের পাঠানো নতুন পোশাক, পাঞ্জাবি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কারা বিধি অনুযায়ী তারা গ্রহণ করেছেন। বিশেষ কারাগারে থাকা অনেক বন্দিই বয়স্ক এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবনের ব্যবস্থা রয়েছে।

গত রোজার ঈদের মতো এবারও ঈদের জামাতে অংশ নেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বাড়তি নিরাপত্তার মধ্যে অন্য বন্দিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ায় তিনি পৃথক কক্ষে অবস্থান করছেন।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া আয়োজন এবং পরিবারের সঙ্গে অতিরিক্ত সাক্ষাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সকাল ১০টায় বিভিন্ন কারাগারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের দ্বিতীয় দিনে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং তৃতীয় দিনে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া ঈদের দিন থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন বন্দিরা পরিবারের দেওয়া খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবেন। একইভাবে একদিন অতিরিক্ত সাক্ষাৎ এবং সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট অতিরিক্ত ফোনে কথা বলার সুযোগও রাখা হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...