এনডিপির কর্মশালায় জ্বালানিমন্ত্রী

বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে

বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণে এনজিওগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভয়েস অব ডেভেলপমেন্ট: ব্রিজিং ডায়ালগস, পলিসিজ অ্যান্ড পার্টনারশিপস ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে বেসরকারি খাতের উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ন্যাশনাল ডেভেলপ প্রোগ্রাম (এনডিপি)।

কর্মশালায় জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জ্বালানি নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের পর জ্বালানির বাজার কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা বলা কঠিন। বাংলাদেশের সামনে নবায়নযোগ্য জ্বালানিই অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত। যদিও বর্ষাকালে দেশে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পাওয়া যায় না, তারপরও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্রামীণ বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণেরে ক্ষেত্রে এনজিওগুলো বড় ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, তারা যদি এক্ষেত্রে গ্রামের বাড়িগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে এবং মাস শেষে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুতের মূল্য আদায় করে, তাহলে গ্রামাঞ্চলে সৌরবিদ্যুতের কভারেজ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে এটি এনজিওগুলোর জন্যও একটি লাভজনক উদ্যোগ হবে।

বর্তমানে জীবাশ্ম জ্বালানি কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র দুই মাসে জ্বালানি আমদানিতে সরকারের প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এই চাপ কমাতে হলে গ্রামাঞ্চলে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে এনজিওগুলো এগিয়ে এলে গ্রামীণ উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।

দেশে গ্যাসের সংকট দিন দিন বাড়ছে এবং গ্যাসলাইনগুলোতে চাপ প্রতিনিয়ত কমছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশ এখন এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বিশ্ববাজারে এলএনজির দামও বাড়ছে। সরকার বর্তমানে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত পরিচালনা করছে। তবে বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ভর্তুকি দেওয়া টেকসই কোনো সমাধান নয়।

সৌরবিদ্যুৎকে জনপ্রিয় করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান মেয়াদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জিত হলে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানির প্রয়োজন কমে যাবে। এতে যে অর্থ সাশ্রয় হবে, তা দেশের অন্যান্য উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা সম্ভব হবে।

এ সময় এনজিওগুলোকে বিদেশি অনুদানের ওপর নির্ভর না করে ব্যবসাভিত্তিক উদ্যোগে যাওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, জলবায়ু ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। এনজিও প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ চাইলে সেই বার্তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ জাকারিয়া, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) ‎এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। ‎সানজিদা কাইয়ুমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অংশ নেন এনডিপির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো.আলাউদ্দিন খান, টিএমএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ড. হোসনে আরা বেগম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাহিন আনাম, প্র্যাকটিক্যাল একশন বাংলাদেশের ‎ইশরাত শবনম প্রমুখ।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন