জাতীয় নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে ১১৬টি সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকি আসনগুলোর ব্যালট আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাঠানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, কয়েকটি আসনে আদালতের নির্দেশে এবং শেষ মুহূর্তে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার কারণে ব্যালট পুনর্মুদ্রণ করতে হওয়ায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে নির্বাচন কমিশন সময়ের মধ্যেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নির্বাচনের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অপতথ্য ও তথ্যের অপপ্রচারকে গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন জানিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও আক্রমণাত্মক কনটেন্ট অপসারণে মেটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এ সময় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইন্টারনেটের গতি কমানোর মতো কোনো পদক্ষেপের পক্ষে নয় নির্বাচন কমিশন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান কার্যকর রয়েছে। সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দায়িত্ব পালন করবে।
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের কাছে কোনো নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ জানতে চাওয়া হয়নি। তারা মূলত কমিশনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে অবহিত হয়েছেন।
পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পোস্টাল ব্যালট ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হবে। যুক্তরাষ্ট্রে তুষারঝড়ের কারণে কিছু ব্যালট আসতে বিলম্ব হলেও মধ্যপ্রাচ্যে ব্যালট আটকে থাকার কোনো তথ্য কমিশনের কাছে নেই।
এদিকে বৈঠক শেষে ইইউ পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভার্স ইয়াবস বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। তিনি ইসির কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো দেখতে চায় ইইউ।
ইতোমধ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনে তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চলছে এবং শিগগিরই স্বল্প মেয়াদে আগত পর্যবেক্ষকরাও মাঠে নামবেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

