আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জাতীয় সংসদ নির্বাচন

প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন শুরু কাল, কোন দেশে কখন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন শুরু কাল, কোন দেশে কখন

প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ আনতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ উদ্বোধন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) অ্যাপটির উদ্বোধন করেন। এ সময় অন্য চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির উর্ধতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অনেক রাজনীতিবিদ উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছেন, বিশ্বের সাতটি অঞ্চলে ভাগ করে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলবে ১৯ নভেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই ৩৫ দিনে পাঁচদিন করে নিবন্ধনের সময় দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকা অঞ্চলে চলবে ১৯ নভেম্বর থেকে ২৩ নভেম্বর। উত্তর আমেরিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলে নিবন্ধন চলবে ২৪ থেকে ২৮ নভেম্বর। ইউরোপে নিবন্ধন চলবে ২৯ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর। মধ্যপ্রাচ্যে নিবন্ধন চলবে ৪ থেকে ৮ ডিসেম্বর। দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে নিবন্ধন চলবে ৯ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর। মধ্যপ্রাচ্য (সৌদি আরব বাদে) ১৪ থেকে ১৮ ডিসেম্বর। এ ছাড়া বাংলাদেশেরে সরকারি কর্মকর্তারা, নির্বাচনী দায়িত্বের কর্মকর্তা, আইনের আওতাধীন ব্যক্তিরা ১৯ থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

অ্যাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিইসি বলেন, প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও বিস্তৃত ও প্রতিনিধিত্বশীল হবে। সবার ভোটাধিকার নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটা কেবল একটা অ্যাপ নয়, এটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ প্রবাসে বসবাস ও কর্মরত আছেন। এতদিন প্রবাসীরা ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হতেন। এই উদ্যোগ তাদের ভোটাধিকার বঞ্চনার অবসান করল।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, প্রবাসীদের নিবন্ধনে আমাদের বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ আছে। প্রথমটি হলো, নিবন্ধনের হার। সারাবিশ্বে প্রবাসী ভোটারদের গড় নিবন্ধনের হার ২ দশমিক ৭ শতাংশ। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো-ব্যালট ওয়েস্টেজ রেট। গ্লোবাল ওয়েস্টেজে রেট হলো, ২৪ শতাংশ। প্রতি চারটিতে একটি ব্যালট নষ্ট হয়।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো সাইবার নিরাপত্তা। সারা বিশ্বে দেখা যায়, এই ধরনের ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অন্তত পাঁচ বছর ট্রায়াল করে দেখা হয়। আমরা ট্রায়াল করেছি এক মাসও হয়নি। তবে আমরা নিশ্চতি করছি, এমন কোনো ত্রুটি যেন না থাকে যা ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।”

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন প্রজেক্টের প্রধান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) সালীম আহমাদ খান পুরো ভোটিং প্রক্রিয়া তুলে ধরেন।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, অ্যাপে নিবন্ধন করার পর সংশ্লিষ্টদের নিয়ে পৃথক ভোটার তালিকা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এক্ষেত্রে নিবন্ধনের সময় দেওয়া ঠিকানায় ফিরতি খামসহ ব্যালট পেপার পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে প্রার্থিতা চুড়ান্ত হওয়ার পর ফের অ্যাপে প্রবেশ করে প্রার্থী তালিকা দেখে সংশ্লিষ্ট ভোটার ভোট দেবেন। এরপর তা ফিরতি খামে ভরে নিকটস্থ পোস্ট অফিস বা পোস্টবক্সে জমা দিলেই তা চলে আসবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে। এসব ভোট জমা থাকবে সরকারি কোষাগারে। ভোটের দিন তা গণনা করা হবে।

১৪৩টি দেশের ৫০ লাখ ভোটারকে নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে প্রাথমিকভাবে ২০ লাখ ব্যালট পেপার ছাপাবে ইসি। পরবর্তীতে প্রয়োজন সাপেক্ষে আরো ছাপানো হবে। পোস্টাল ব্যালটে কেবল প্রার্থীর প্রতীক থাকবে, নাম থাকবে না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন