ইতিহাসের পাতায় নতুন গৌরবময় অধ্যায় যুক্ত করেছে বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দর এলাকায় সর্বাধিক জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাট্রুপিং প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে সশস্ত্র বাহিনী। মহান স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
গতকাল দুপুর ১২টার দিকে আয়োজিত এ ইভেন্টে অংশ নেন টিম বাংলাদেশের ৫৪ জন প্যারাট্রুপার। প্রায় ১২ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে ফ্রি-ফল জাম্পের মাধ্যমে তারা লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে একে একে নেমে আসেন প্যারেড গ্রাউন্ডে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্তির প্রতীক হিসেবে ৫৪ জন প্যারাট্রুপারের এই সমন্বিত পতাকাবাহী স্কাইডাইভ বিশ্বের সর্ববৃহৎ পতাকা-প্যারাসুটিং প্রদর্শনী হিসেবে রেকর্ড গড়ে।
এদিকে এ ঐতিহাসিক মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করতে সকাল থেকেই তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দর এলাকায় জনস্রোত নামে। সকাল থেকেই বিমানবন্দরের প্রধান ফটক ও আগারগাঁও-সংলগ্ন প্রবেশ পথে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশি শেষে তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো আয়োজনজুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
প্যারাট্রুপিং প্রদর্শনীর পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বিত ফ্লাই-পাস্ট মহড়া। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিভিন্ন বিমান ও হেলিকপ্টার আকাশে নিখুঁত কৌশলে উড্ডয়ন, মহড়া ও প্রদর্শনী চালায়। গর্জে ওঠা জেট বিমানের শব্দ আর সুনিপুণ অ্যারোবেটিক কৌশল দর্শকদের মুগ্ধ করে। এ ছাড়া আয়োজন করা হয় বিশেষ বিজয় দিবস ব্যান্ড শো, যা পুরো পরিবেশকে করে তোলে আরো উৎসবমুখর।
‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জনের প্যারাট্রুপিংয়ে সেনাবাহিনীর ৪৬ জন, নৌবাহিনীর ৫ জন, বিমানবাহিনীর ২ জন এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন অংশ নেন। এই ফ্রি-ফল জাম্পের মাধ্যমে কেবল বিশ্ব রেকর্ডই নয়, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অবদানকেও সম্মান জানানো হয়। ৪৯ থেকে ৫৪ নম্বরধারী প্যারাট্রুপাররা সুদানে নিহত ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর নাম বুকে ধারণ করে অবতরণ করেন, যা উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
এই ফ্রি-ফল জাম্প ও সার্বিক প্যারাট্রুপিং কার্যক্রমের তত্ত্বাবধায়ক ও ড্রপ জোন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এম ইমরুল হাসান। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনৈতিকবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতা, স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও বিএনসিসি ক্যাডেটরা।
বিজয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা আয়োজন করা হয়। চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, পাগলা (নারায়ণগঞ্জ) ও বরিশালে বিআইডব্লিউটিসি ঘাটে নৌবাহিনীর জাহাজ দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। পাশাপাশি সামরিক জাদুঘরসহ বিভিন্ন বাহিনীর জাদুঘর বিনা টিকিটে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

