ই-বর্জ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়া না করার অর্থনৈতিক রাজস্ব হারাচ্ছে বাংলাদেশ

ই-বর্জ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়া না করার অর্থনৈতিক রাজস্ব হারাচ্ছে বাংলাদেশ

ই-বর্জ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়া না করার কারণে বাংলাদেশ মূল্যবান ধাতু এবং বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক রাজস্ব হারাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ।

বিজ্ঞাপন

বুধবার সকালে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত “বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশাসন: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা” শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, দেশে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারী ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে গৃহস্থালি ই-বর্জ্য যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত করে মধ্যবর্তী পণ্য হিসেবে বিদেশে রফতানি করা যায়। ব্যাসেল কনভেনশনের নিয়ম মেনে বাইরের দেশ থেকে ক্ষতিকর ই-বর্জ্য আমদানি না করে আমরা স্থানীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

সরকারি ও বেসরকারি যৌথ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেবল সরকারের একক প্রচেষ্টায় সফল করা সম্ভব নয়। এর জন্য বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, বেসরকারি খাত এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রয়োজন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘থ্রি-আর’ (Reduce, Reuse, Recycle) নীতি প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্লাস্টিক বা সাধারণ বর্জ্যের পাশাপাশি বর্তমানে ক্রমবর্ধমান ই-বর্জ্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে স্মার্টফোন, ব্যাটারি এবং ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকেল) বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের জন্য কার্যকরী নীতিমালা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতি রয়েছে। ২০২১ সালে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা প্রণয়ন করা হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের দক্ষতা ও সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে তা আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। পাশাপাশি দেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি রয়েছে, যা এ খাতের সুষ্ঠু পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতিটি জেলায় ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের অঙ্গীকার রয়েছে। সোলার সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই, তবে একই সঙ্গে এসব ব্যবস্থায় ব্যবহৃত পণ্যের বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

সেমিনারে জানানো হয়, দেশের ৪১টি জেলায় বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কিন্তু এসব ইভিএমে থাকা মূল্যবান যন্ত্রাংশের ব্যবস্থাপনা বা পুনর্ব্যবহারে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর কমিশনার (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল আহমেদ এবং বিটিআরসি-র পরিচালক জেনারেল (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউর রহমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন