জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতির কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদ সদস্যরাও অনুপস্থিত থাকায় তিনি উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় নেই। এমপিরা তাদের এলাকার কথা বলেন, মন্ত্রীদের শোনা উচিত। জবাবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সংসদে অনুপস্থিত থাকা মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে আছেন। এদিকে সোমবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের জন্য নির্ধারিত কয়েকজন সংসদ সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। কেউ কেউ উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দিতে প্রস্তুত নন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, সবাই সংসদের প্রাণ প্রধানমন্ত্রীর সামনেই বক্তব্য দিতে চান।
সোমবার মাগরিবের বিরতির কিছুক্ষণ আগে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আলোচনায় অংশ নিতে নেত্রকোণা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের নাম ঘোষণা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি লুৎফুজ্জামান বাবরকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ১০ মিনিট সময় দেন। এসময় বাবর বলেন, আমিতো আজকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য সময় চায়নি।
পরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে একটি তালিকা দেখিয়ে স্পিকার বলেন, তালিকাতো আপনারাই দেন। প্রথমে ছাপানো, পরে হাতে লেখা। কিন্তু বক্তা তো পাওয়া যায় না।
তখন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেন, আজকে যাদের তালিকা দিয়েছি সবার সঙ্গে কমবেশি কথা হয়েছে। হুইপেরা সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। কথা বলেই তালিকা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সবাই অবগত। একটা সমস্যা হচ্ছে— আজকে প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত নেই। প্রকৃত পক্ষে প্রধানমন্ত্রী সংসদের প্রাণ। সবাই ওনাকে বক্তব্য শোনাতে চান। এ জন্য আমরা অনেক বক্তা পাই না। বাবর সাহেবের সঙ্গে মনে হয় আমাদের হুইপ নুরুদ্দিন সাহেব (মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু) কথা বলেছেন, কথা বলেই নামটা দেওয়া হয়েছে।
চিফ হুইপ সংসদ সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বক্তাদের বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করব। যাতে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) শুনতে পান কি বলেছেন আপনারা।
পরে লুৎফুজ্জামান বাবরকে উদ্দেশে করে স্পিকার বলেন, আপনি আজকে বলতে চাচ্ছেন না? জবাবে বাবর বলেন, আমি বলতে চাচ্ছি না। এ কথাটাও সঠিক না, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সঙ্গে এ ব্যাপারে কোন কথাই হয়নি।
পরে চিফ হুইপকে উদ্দেশে করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম সারিতে মাত্র তিনজন মন্ত্রীকে দেখতে পাচ্ছি। অনেক সদস্য তাদের এলাকার কথা বলে, এগুলো মন্ত্রীদের শোনা প্রয়োজন। আপনি আমাদের পক্ষ থেকে মন্ত্রীদের অনুরোধ করবো তারা যেন সংসদে এসে সংসদ সদস্যদের কথাবার্তা শোনেন। এ সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে সমর্থন জানান।
তখন ফ্লোর নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, আজকে এখানে মন্ত্রীদের না থাকার কারণ সংশ্লিষ্টরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে আছেন। যে কয়েকজন নাই, তারা ওখানে আছেন এবং রাষ্ট্রীয় কাজে আছেন। অন্যদিকে দ্বিতীয়, তৃতীয় সারিতে সকল মন্ত্রীরা কম-বেশি উপস্থিত আছেন, প্রায় ৩০ জনের মত মন্ত্রী এখন উপস্থিত আছেন। মাননীয় স্পিকার আপনার বক্তব্য তাদের কাছে পৌঁছে দেব। আমি গুনেছি ৩০ জনের বেশি আছে। তারা শুনতে চান, শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
পরে স্পিকার বলেন, অধিকাংশই (এমপি) স্বাস্থ্যমন্ত্রী, যোগাযোগ মন্ত্রীর কথা বলে, তাদের রাস্তাঘাট, হাসপাতালগুলোর বেহাল অবস্থা বলে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সংসদে অধিবেশনে যোগ দেওয়া। এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছুই নেই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

