প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন ২০২৬ দ্রুত অনুমোদনের উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষা অধিকার সংসদ। গতকাল শনিবার সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নিয়াজ আসাদুল্লাহ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়। সংগঠনটির মতে, নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সীমিত মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের জনসম্পৃক্ততা, অংশীজন পরামর্শ ও জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন সমীচীন নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষা আইন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক প্রভাবসম্পন্ন আইন। এ ধরনের আইন প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের অংশগ্রহণ, প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং বিস্তৃত নাগরিক আলোচনার সুযোগ থাকা আবশ্যক। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত খসড়া আইনটি অনুমোদন পেলে গণতান্ত্রিক আলোচনা ও অংশগ্রহণের সেই সুযোগ নিশ্চিত হবে না বলে সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
শিক্ষা অধিকার সংসদ খসড়া আইনে কিছু সংজ্ঞাগত অস্পষ্টতা, শাসন কাঠামোর অনির্দিষ্টতা এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত দিকনির্দেশনার ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেছে। এসব দুর্বলতা ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জটিলতা ও নীতিগত সংকট তৈরি করতে পারে বলে তারা মনে করে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই-২০২৪-এর পরও একটি স্বাধীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থায়ী শিক্ষা সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষা খাতের সামগ্রিক সংস্কার বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা ও পর্যালোচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। এ অবস্থায় শিক্ষা অধিকার সংসদ প্রস্তাব করছে, শিক্ষা আইন, ২০২৬ বর্তমান পর্যায়ে অনুমোদন না দিয়ে বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া হোক। এতে সব অংশীজনের অংশগ্রহণে একটি শক্তিশালী, টেকসই ও সর্বজনগ্রাহ্য শিক্ষা আইন প্রণয়ন সম্ভব হবে।
শিক্ষা অধিকার সংসদের আহ্বায়ক অধ্যাপক এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ বিবৃতিতে বলেন, ‘দেড় বছর ধরে রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনায় শিক্ষা খাত সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। তড়িঘড়ি করে শিক্ষা আইন প্রণয়ন সামগ্রিকভাবে দুর্বল ও সীমাবদ্ধ হবে। শিক্ষা সংস্কার সময়, সংলাপ ও ঐকমত্যের মধ্যদিয়ে হওয়াই রাষ্ট্র ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সর্বোত্তম পথ।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

