আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা ও পূর্বাভাসের সঙ্গে বাস্তব আবহাওয়া পরিস্থিতির কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী দেশের সাত বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও মঙ্গলবার দেশের কোথাও তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। দুর্যোগের আগাম বার্তা দেওয়া মূল রাষ্ট্রীয় সংস্থাটির এমন ভুল বার্তার কারণে প্রশ্ন উঠেছে তাদের সক্ষমতা ও ভূমিকা নিয়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদরাও স্বীকার করেছেন যে, তাদের দেওয়া আগের দিনের সতর্কবার্তাটি ছিল একটি ‘বড় ধরনের মিসটেক’।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তা ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে অতি ভারী বর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়। গত সোমবার আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুকের সই করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে, এমনকি রাজধানীতেও জলাবদ্ধতার আশঙ্কার কথা বলা হয়। তবে বাস্তব চিত্র দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পূর্বাভাস সত্ত্বেও দেশের কোথাও ভারী বৃষ্টি হয়নি। এ সময় সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় গোপালগঞ্জে এবং ঢাকাতে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৭ মিলিমিটার।
কেন আবহাওয়ার পূর্বাভাসের এমন বিচ্যুতি ঘটছে—এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, পর্যবেক্ষণ স্টেশনের স্বল্পতা এর প্রধান কারণ। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, রংপুর থেকে বগুড়া পর্যবেক্ষণ স্টেশনের দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার হলেও এর মাঝে কোনো স্টেশন নেই। এভাবে সারা দেশেই প্রয়োজনের তুলনায় স্টেশনের সংখ্যা কম, যা বাড়ালে আরো নির্ভুল ডেটা বা উপাত্ত পাওয়া যেত।
এছাড়া প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, অধিদপ্তরের পাঁচটি রাডারের তিনটিই পুরোপুরি বিকল। সম্প্রতি কেবল ঢাকা ও রংপুরের রাডার দুটি মেরামত করা হয়েছে। বাকি তিনটি রাডার জাইকা পুনঃস্থাপন না করলে সচল হওয়ার সুযোগ নেই। এসব সীমাবদ্ধতার কারণেই সোমবারের ভারী বর্ষণের পূর্বাভাসটি বড় ধরনের ভুলে রূপ নেয়।
এদিকে ৪৮ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই আগের বার্তা সংশোধন করে নতুন সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়বে। আজ বুধবার সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় কেবল বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এর ফলে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে, যার মধ্যে কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের নিয়মিত পূর্বাভাসে জানানো হয়, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। দক্ষিণাঞ্চলে মৌসুমি বায়ু বেশ সক্রিয় থাকায় চলতি সপ্তাহে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি সারা দেশেই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত ও মেঘলা আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

