দীর্ঘ তিন ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং চিকিৎসাসেবা স্থবিরতার পর অবশেষে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিস্থিতি। কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে রাত সাড়ে ৯টা থেকে জরুরি বিভাগ সচল হয়েছে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে সময় লেগেছে আরও কিছুক্ষণ, রাত সোয়া ১০টার দিকে হাসপাতালের মূল ফটক জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটি ও সমঝোতা:
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠক শেষে ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায়ীদের শনাক্ত করতে সার্জারি বিভাগের ডা. নাদিম আহমেদকে প্রধান করে ৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী শনিবারের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে উভয় পক্ষ।
ঘটনার নেপথ্যে যা ছিল:
বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তুচ্ছ এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সূত্রপাত। প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে জরুরি বিভাগে এলে তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। তবে ওই ওষুধটি হাসপাতালের নিজস্ব ফার্মেসিতে মজুত না থাকায় দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে বলেন। ওই শিক্ষার্থী বাইরে ওষুধ না পেয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় চিকিৎসকদের কাছে এসে তর্কে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডা হাতাহাতি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়, যাতে অন্তত চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সহকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং শতভাগ নিরাপত্তার দাবিতে মুহূর্তেই কাজ বন্ধ করে দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে দেশের বৃহত্তম এই হাসপাতালের জরুরি সেবা কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। কয়েক ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীদের কাতরাতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সেবাবঞ্চনার চিত্র ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আল্টিমেটাম:
যদিও তদন্ত কমিটির আশ্বাসে চিকিৎসকরা কাজে ফিরেছেন, তবে তারা এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ বা পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতির পথে হাঁটবেন।
সংঘর্ষের পর থেকে হাসপাতাল এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরত পাঠিয়েছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোনো অভিযোগ থাকলে তা নিয়মতান্ত্রিকভাবে দেখা হবে, তবে হাসপাতালের সেবা বিঘ্নিত করা কাম্য নয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

