জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়: সাকি

জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়: সাকি
জুলাই গণসমাবেশে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। ছবি: সংগৃহীত

ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া এই পর্যায়ে আমরা গণতান্ত্রিক উত্তরণে যেতে পারব না বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

শুক্রবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর উপলক্ষে গণসংহতি আন্দোলন আয়োজিত জুলাই গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

জোনায়েদ সাকি বলেন, ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া এই পর্যায়ে আমরা গণতান্ত্রিক উত্তরণে যেতে পারব না। কাজেই জনগণ ভোট দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ-এর যে বাস্তবায়নের ম্যান্ডেট দিয়েছে, সেই অনুযায়ী যাতে রাজনৈতিক সংস্কার, সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়িত হয়, আমরা তার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবো।

তিনি বলেন, আজকে সরকারের কাজ করার সুবাদে এই কথা পরিষ্কার আমরা বলতে চাই—প্রথম কথা ছিল এই দেশের শ্রেণি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যাতে আমাদের এই রাষ্ট্রজীবনে অধিকার আর মর্যাদা পায়। একজন মানুষও যাতে বাইরে না থাকে তার জন্য আমরা কাজ করব।

তিনি আরও বলেন, আমরা জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছি, কিন্তু আরেকটা নতুন ফ্যাসিবাদ—যারা ধর্মের বয়ান দিয়ে, নিজস্ব বয়ান দিয়ে মানুষে মানুষে বিভাজন তৈরি করতে চায়। তারা মানুষকে উত্তেজিত করে পানি ঘোলা করতে চাইছে। সরকার যখন জনআকাঙ্ক্ষা, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করার উদ্যোগ নিচ্ছে, তারা দেশে একটা উত্তেজনা সৃষ্টি করে একটা ঘোলা পানি তৈরি করতে চাচ্ছে। জনগণকে আজকে সতর্ক থাকতে হবে। গণসংহতি আন্দোলনের প্রত্যেকটি নেতা-কর্মী বাংলাদেশের মানুষের বর্তমান যে আকাঙ্ক্ষা, জাতীয় পুনর্গঠনের আকাঙ্ক্ষা –তাকে ধারণ করে জনগণের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টির লড়াই অব্যাহত রাখবে।

‘গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলুন’ এবং ‘নতুন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হোন’ এই আহ্বান নিয়ে, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এ সমাবেশ উদ্বোধন করেন শহীদ জুলফিকার আহমেদ শাকিলের মা আয়েশা বিবি। সমাবেশের শুরুতেই শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয় এবং জিএসএর সাম্প্রতিক সময়ে মৃত্যুবরণকারী সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের জন্য শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে জিএসএর প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমরা ৬৯, ৭১, ৯০ ও ২৪ সালে আন্দোলন করেছি। সর্বশেষ ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি দায়িত্ব ছিল—বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। ইতোমধ্যে নির্বাচনসহ বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হলেও সংস্কারের ক্ষেত্রে আমরা আশাহত হয়েছি। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার অবিলম্বে জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করবে।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জিএসএর ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু, জেন্ডার বিষয়ক সম্পাদক পপি রানী সরকার ও দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জিএসএর নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, জিএসএর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, জিএসএর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার, জিএসএর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ রুমী, জিএসএর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মনির উদ্দীন পাপ্পু, শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বাবা মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন