জ্ঞান-বিজ্ঞানে পিছিয়ে পড়াই মুসলিম বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জ: মাহমুদুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার

জ্ঞান-বিজ্ঞানে পিছিয়ে পড়াই মুসলিম বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জ: মাহমুদুর রহমান

দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, আল্লাহ আমাদের অনেক সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু তারপরও আমরা পিছিয়ে গেছি। কারণ আল্লাহ সম্পদ দেয়ার পাশাপাশি মাথাকে কাজে লাগাতে বলেছেন। তিনি পবিত্র কোরআনের শুরুতেই পড়তে বলেছেন। অথচ আমরা সেই পড়াটাই ছেড়ে দিয়েছি। আমরা যদি জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে যেতে না পারি তাহলে কিভাবে পৃথিবীতে এই আমেরিকা বা ইসরাইলের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে পারব? একটা সমস্যা তো অবশ্যই আমাদের বিভক্তি, তার সঙ্গে আরেকটা সমস্যা হলো যে জ্ঞান-বিজ্ঞানে আমরা পিছিয়ে আছি।

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘এক মুসলিম দাওয়াহ কল্যাণ সংস্থা’। সংগঠনের সভাপতি মো. জালাল ভূইয়ার সভাপতিত্বে সভায় মুল প্রবন্ধ পাঠ করেন সেক্রেটারি সৈয়দ এম আর জুলফিকর।

বিজ্ঞাপন

মাহমুদুর রহমান বলেন, আমরা যদি আজ থেকে এক হাজার বছর আগে পিছনে চলে যাই, তাহলে দেখব জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানরাই সর্বশ্রেষ্ঠ। তখনকার যত দার্শনিক, যত বিজ্ঞানী—ইবনে সিনা, আল-বেরুনির মত লোক ছিল। কিন্তু আজকে আমাদের যুগের ইবনে সিনা কই? আমাদের যুগের আল-বেরুনি কই? আমাদের যুগের রুমি কই? কাজেই আমরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে পিছিয়ে গেছি এটা আমাদেরকে মেনে নিতে হবে। এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে যদি আমরা এগিয়ে যেতে না পারি সেক্ষেত্রে আমরা সফলভাবে অন্যান্য জাতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে পারব না।

মাহমুদুর রহমান বলেন, মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি অনেক প্রাচীন। হযরত হাসান (রাঃ) ৬৬১ সালে হযরত আলী (রাঃ)-এর শাহাদাতের পরে তিনি দুঃখভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেছিলেন রক্তের বন্যায় উম্মাহ ভেসে গেছে। অথচ তার মাত্র ২৫ বছর আগে ৬৩৬ খ্রিস্টাব্দে মুসলমান বাহিনী একই সঙ্গে তৎকালীন সবথেকে শক্তিশালী দুই সাম্রাজ্য— বাইজানটাইন এবং পারশিয়াকে একই সঙ্গে পরাজিত করেছিল। ইসলামের জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল তখন থেকেই।

তিনি বলেন, ইরানে ইসলামিক বিপ্লব সফল হওয়ার পর থেকেই আমেরিকা ইরানকে টার্গেট করেছে। কারণ আমেরিকা চিন্তা করেছে যে, একটি রাষ্ট্রে যদি ইসলামিক রেভল্যুশন সাকসেসফুল হয়ে যায় এবং তারা যদি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে উন্নতি করে ফেলে তাহলে অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোও একই দিকে এগিয়ে যেতে পারে। কাজেই ইসলামিক বিপ্লবকে ব্যর্থ করতে না পারলে পৃথিবীতে ইসলামের বিজয় ঠেকানো যাবে না। বর্তমানে ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সবথেকে এগিয়ে আছে ইরান। আর আমাদের দুর্ভাগ্যের কথা হচ্ছে ওআইসিকে কার্যকর দেখতে পারি নাই। মুসলিম অত্যাচারের বিরুদ্ধে কখনো সংস্থাটি প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করতে পারেনি। কাজেই ওআইসির পুনর্গঠন করা দরকার। এই পুনর্গঠন ছাড়া মুসলিম বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে না।

শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব কোনো নতুন উদ্ভাবন নয়, এটি হাজার বছর ধরে চলে আসছে মন্তব্য করে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, এটাকে আমাদের গ্রহণ করতে হবে। আমরা সবাই মুসলমান এটা মূল কথা। তিনি বলেন, শুধু ইসলামের মধ্যে বিভক্তি আছে? খ্রিস্টানদের মধ্যেও প্রধান তিনটি ভাগ আছে, কিন্তু সারাদিন নিজেদের মধ্যে মারামারি করছে না। আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করি। তাই আমাদের খোলা মনে আলোচনা করা দরকার। আমি ধর্মীয় নেতাদেরও আহ্বান জানাব আপনারা এক টেবিলে বসুন। একে অপরকে মুসলমান মেনে নিলেই বিভেদ অনেকাংশে চলে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রী এম নাজিমুদ্দিন আল আজাদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মসউদ মান্নান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান খন্দকার প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন