সংসদে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও প্রতিনিধি রাখার চিন্তাভাবনা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

সংসদে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও প্রতিনিধি রাখার চিন্তাভাবনা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) ব্যক্তিদের জন্যও নির্দিষ্ট প্রতিনিধিত্ব রাখা যায় কি না, সে বিষয়ে ইতিবাচক বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, বিষয়টি সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে জড়িত হওয়ায় দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আলোচনা করে সম্ভব হলে একজন নারী ও একজন পুরুষ প্রতিনিধি রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শনিবার বিকেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার ও কল্যাণ নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমান বলেন, ‘সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি সাংবিধানিক এখতিয়ারের বিষয়। এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে না পারলেও দলের ফোরামে আলোচনা করব। যদি সম্ভব হয়, তবে এই কমিউনিটি থেকে একজন নারী ও একজন পুরুষ প্রতিনিধি রাখার বিষয়টি আমরা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করব।”

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আর্থসামাজিক পুনর্বাসন ও দৈনন্দিন দুর্ভোগ লাঘবে একগুচ্ছ দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারি চাকরিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রার্থীদের জন্য বয়সসীমা অন্তত ২ থেকে ৩ বছর বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

গণপরিবহন ও অবকাঠামোগত সংকট নিরসনে তারেক রহমান বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারী ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে চালু করা ‘পিঙ্ক বাস’ যেন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা সহজেই ব্যবহার করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উপযোগী আধুনিক সাধারণ গণপরিবহন চালুর নির্দেশনা দেওয়া হবে। ভবনে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতে নকশা সংশোধনের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে তাদের যোগাযোগ সহজ করতে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ (ইশারা ভাষা) বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণে পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ শুমারি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া আইনি সহায়তা নিশ্চিতে সমাজকল্যাণ ও আইন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ইতিবাচক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন