আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

যাত্রী কল্যাণ সমিতি

নভেম্বরে ৫২৬ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫০৭, আহত ৮৯৯

স্টাফ রিপোর্টার

নভেম্বরে ৫২৬ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫০৭, আহত ৮৯৯

চলতি বছরের নভেম্বর মাসে সারা দেশে ৫২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫০৭ জন নিহত ও ৮৯৯ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে রেলপথে ৪৪টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ১ জন আহত হন। নৌপথে সংঘটিত ৭টি দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত এবং ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৫৭৭টি দুর্ঘটনায় ৫৫৩ জন নিহত এবং ৯০০ জন আহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে। সোমবার সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নভেম্বর মাসে ১৯৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০১ জন নিহত ও ১৭১ জন আহত হয়েছেন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ, নিহতের ৪১ দশমিক ১০ শতাংশ এবং আহতের ২০ দশমিক ৮২ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এখানে ১৫৫টি দুর্ঘটনায় ১৩২ জন নিহত ও ২৫৭ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে, যেখানে ১৯টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৮৯ জন আহত হয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ১২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১১৩ জন চালক, ৯৭ জন পথচারী, ৪১ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪৫ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন শিক্ষক, ৮০ জন নারী, ৬০ জন শিশু, ৫ জন চিকিৎসক, ৫ জন সাংবাদিক এবং ৬ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৪ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন র‍্যাব সদস্য, ১ জন সেনা সদস্য, ৫ জন চিকিৎসক, ১ জন সাংবাদিক, ১০৯ জন চালক, ৯৩ জন পথচারী, ৭১ জন নারী, ৫০ জন শিশু, ৪৩ জন শিক্ষার্থী, ১৮ জন পরিবহন শ্রমিক, ১২ জন শিক্ষক ও ৬ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

এই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত ৭৪৬টি যানবাহনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩১ দশমিক ২৩ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৩ শতাংশ বাস, ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭ দশমিক ১০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৯ দশমিক ১১ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ কার, জিপ ও মাইক্রোবাস।

দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী, ৪৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া, ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ অন্যান্য কারণে, শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে।

স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ০২ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৪ দশমিক ৭১ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ৩০ দশমিক ২২ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন