দেশের চার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা হবে

স্টাফ রিপোর্টার

দেশের চার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা হবে

বাণিজ্য, পরিবহন ও আঞ্চলিক সংযোগ বাড়াতে রাজশাহী, কক্সবাজার, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা এবং একটি সমন্বিত ডিজিটাল লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্ম চালু করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে একটি জাতীয় বিমান সংযোগ গ্রিড স্থাপন, নতুন আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার তৈরি এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে সমন্বিত যাত্রী ও লজিস্টিকস কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উন্মোচনকালে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে একটি আধুনিক আঞ্চলিক বিমান চলাচল কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও পরিবহন নেটওয়ার্কে দেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিমান সংযোগ বাড়াতে এবং দেশজুড়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সহায়তা করার জন্য রাজশাহী, কক্সবাজার, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে রূপান্তর করা হবে।

আমির খসরু বলেছেন, পণ্যের নির্বিঘ্ন চলাচল সহজ করতে, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করতে এবং বাণিজ্য দক্ষতা বাড়াতে একটি সমন্বিত ডিজিটাল লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্মও চালু করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার বিমান চলাচল খাতকে আধুনিকীকরণের জন্য একাধিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যার মধ্যে রয়েছে যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে টার্মিনাল সুবিধার সম্প্রসারণ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু এবং সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে রানওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজও প্রায় শেষের দিকে, যা বিমানবন্দরের সক্ষমতা ও যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত করবে।

মন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক বিমান চলাচল খাত গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার একই সাথে বিমানবন্দরের যাত্রী পরিষেবার আধুনিকীকরণ, কার্গো ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শক্তিশালীকরণ, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা মান উন্নয়ন এবং ডিজিটাল পরিষেবা সম্প্রসারণ করছে।

তিনি বলেন, একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিমান চলাচল ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে যাত্রীদের জন্য ঝামেলামুক্ত পরিষেবা নিশ্চিত করা, প্রবাসী কর্মীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারকে উৎসাহিত করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রচেষ্টাও চলছে।

বৃহত্তর পর্যটন উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে, সরকার আরও বেশি পর্যটক আকর্ষণ করতে এবং এই খাতে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি বিনিয়োগ রূপরেখা প্রস্তুত করছে।

অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, পরিকল্পিত উদ্যোগগুলো বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে। একই সাথে, এটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটনের অবদান ছয় থেকে সাত শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করতে সাহায্য করবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...