আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বিশ্ব মিডিয়ায় নির্বাচনের খবর

নতুন দিনের আশায় ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট

নতুন দিনের আশায় ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশে বহুল প্রতীক্ষিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঘটেনি বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা। জুলাই বিপ্লবে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর হওয়া এই নির্বাচনের খুঁটিনাটি বিশ্ব মিডিয়া দিনভর অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভোটের উৎসবমুখর পরিবেশের চিত্র।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা নির্বাচনের খবর লাইভ প্রচার করে। এতে নির্বাচনের খুঁটিনাটি, দিনের উল্লেখযোগ্য খবর, নির্বাচন সংক্রান্ত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। এছাড়া কেন নারী ও সংখ্যালঘুরা জামায়াতকে ভোট দিয়েছে তার কারণ খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। গুরুত্ব পেয়েছে নির্বাচন উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তার বিষয়টিও।

বিজ্ঞাপন

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিও বাংলাদেশের নির্বাচনের খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে। ‘জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচন’ শিরোনামে লাইভ রিপোর্টিংয়ে সকাল থেকেই নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রচার করা হয়। এ নির্বাচনকে সংবাদমাধ্যমটি ঐতিহাসিক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এতে বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য যে চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

অপর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সও ব্যাপক গুরুত্ব দিয়ে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের খবর প্রচার করেছে। হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর প্রথম ভোটে বিপুল ভোটারের উপস্থিতি ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এছাড়া বেশকিছু ভোটারের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। এর মধ্যে একজন হলেন ঢাকার একটি আসনের ভোটার রুমা খাতুন। ৩২ বছর বয়সী এই নারী একজন গৃহিণী। তিনি ভোট দিতে এসেছেন বোরকা পরে এবং হাতে মেহেদি দিয়ে এঁকেছেন জামায়াতের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার ছবি। তার মতে, ‘আমি চাই ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের নেতৃত্ব দিক। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করতে পারেন এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত, উন্নত বাংলাদেশ গড়তে পারেন।’

বাংলাদেশের নির্বাচনের খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানও। এ সংবাদমাধ্যম তাদের খবরের শিরোনাম করেছে, ‘হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচন, পরিচ্ছন্ন রাজনীতির যুগের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের’।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসও বাংলাদেশের নির্বাচনের খবর অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের খবরের শিরোনাম ছিল, ‘২০২৪ সালে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো নির্বাচন আয়োজন করেছে’। অন্যদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমস শিরোনাম করেছে, ‘২০২৪ সালের ছাত্র বিক্ষোভের পর বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত’।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোও বাংলাদেশের নির্বাচনের খবর খুবই গুরুত্বসহকারে প্রচার করেছে। তবে দেশটির গদি মিডিয়া হিসেবে পরিচিত এসব সংবাদমাধ্যম কিছুক্ষেত্রে অপপ্রচারের আশ্রয় নিয়েছে। কেননা, বাংলাদেশে দেশটির মদতপুষ্ট হাসিনার সরকারের পতন হয়েছে জুলাই বিপ্লবে। এরপর থেকেই ভারতে রয়েছেন সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা।

দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক আনন্দবাজার—সবই উল্লেখযোগ্য জায়গাজুড়ে ছিল বাংলাদেশের নির্বাচনের খবর। এর মধ্যে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে ভোটের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়। আর আনন্দবাজারের খবরে দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রের ছোট ছোট অসঙ্গতিগুলো ফলাও করে তুলে ধরা হয়েছে। এতে স্পষ্ট যে, তাদের লক্ষ্য ছিল, নির্বাচনকে বিতর্কিত করা।

অন্যদিকে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমও বাংলাদেশের নির্বাচনের খবর দিনভর প্রচার করেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন এ বিষয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘জুলাই বিপ্লবের পর ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বিপুল বাংলাদেশি’। অন্যদিকে জিও নিউজের খবরে বলা হয়, ‘নতুন দিনের আশায় ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ’।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন