বাংলাদেশে ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার যে ৬৪৫টি ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে, তার মধ্যে মাত্র ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদান পেয়েছে পুলিশ। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে পুলিশের নথি পর্যালোচনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার মোট ৬৪৫টি ঘটনার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, সব তথ্য যাচাইকৃত ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর), জেনারেল ডায়েরি (জিডি), চার্জশিট এবং সারা দেশের তদন্ত অগ্রগতির ভিত্তিতে পাওয়া গেছে।
এতে বলা হয়েছে, পর্যালোচনায় মোট ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদান পাওয়া গেছে, আর ৫৭৪টি ঘটনা সাম্প্রদায়িক নয় বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলোর মধ্যে প্রধানত ধর্মীয় উপাসনালয় ও প্রতিমা ভাঙচুর বা অবমাননার ঘটনা ছিল, পাশাপাশি অল্পসংখ্যক অন্যান্য অপরাধও অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, সংখ্যালঘু ব্যক্তি বা সম্পত্তিকে প্রভাবিত করে এমন অধিকাংশ ঘটনাই ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, অন্য যেসব ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ, জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, চুরি, যৌন সহিংসতা এবং পূর্ববর্তী ব্যক্তিগত শত্রুতাজনিত ঘটনাও রয়েছে।
সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলোর মধ্যে মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, মন্দিরে চুরি, হত্যাকাণ্ড এবং প্রতিমা ভাঙার হুমকি, ফেসবুক পোস্টের মতো ৭১টি ঘটনা রয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ‘প্রতিটি অপরাধের ঘটনাই উদ্বেগজনক হলেও তথ্য-উপাত্তের প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ থেকে এটি স্পষ্ট যে—অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, বরং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। যা একদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ নির্দেশ করে, অন্যদিকে ভীতি বা বিভ্রান্তির বদলে তথ্যভিত্তিক আলোচনার গুরুত্বকে তুলে ধরে।’ সূত্র: বিবিসি বাংলা
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

