এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে শুধু রাজধানী থেকে দেড় কোটির মতো মানুষ গ্রামে যাবে। অল্প সময়ের মধ্যে এ বিপুল পরিমাণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত হারের বেশি ভাড়া নিলে যানবাহনের রুট পারমিট বাতিল, ঈদের দিনসহ আগের ও পরের সাতদিন মহাসড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা, চাঁদাবাজি বন্ধ ও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তদারকির জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এ সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
সভার সিদ্ধান্ত তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী সারা দেশে যানজট ঝুঁকিতে থাকা ২০৭ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা আগে থেকেই এসব জায়গায় ব্যবস্থা নেব। এছাড়াও ঢাকার সদরঘাট, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়া—এই পাঁচটি টার্মিনালে প্রয়োজনীয় সিসিটিভি ও সার্চলাইট স্থাপন এবং বিআরটিএ ও পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে তা যুক্ত করা হবে। ওই টার্মিনালগুলো যেন এ বিভাগ থেকে মনিটরিং করা যায়, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, যাত্রীসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিআরটিএ, পুলিশ কমিশনার, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সওজ অধিদপ্তর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। ছেড়ে যাওয়া ও আগত মোটরযানের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করা এবং মোটরযানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করার বিষয়ে বিশেষ তদারকি করা হবে। কেউ ভাড়া বেশি নিলে ওই পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল করা হবে।
তিনি আরো বলেন, দেশের সব বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং সড়কপথে চুরি-ছিনতাই, পকেটমার, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ডাকাতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সড়কে লক্কড়-ঝক্কড়, ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধ করা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এমন কোনো পরিবহন এবার সড়কে চলতে দেওয়া হবে না।
মন্ত্রী বলেন, ঈদের দিনসহ ঈদের আগের তিনদিন এবং পরবর্তী তিনদিন পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এ সময় পচনশীল ও ভোগ্যপণ্যবাহী যানবাহন চলবে। ঈদ উপলক্ষে সিএনজি ও ফিলিং স্টেশনগুলো ঈদের দিনসহ এর পূর্বে সাতদিন এবং পরবর্তী পাঁচদিন সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হবে।
পোশাক শ্রমিকদের ছুটির বিষয়ে তিনি বলেন, গার্মেন্টসসহ সব শিল্প, কল-কারখানার কর্মীদের পর্যায়ক্রমে ছুটির ব্যবস্থা করবে মালিক পক্ষ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


শুঁটকির বাজারে বিড়ালকে চৌকিদার বানাইয়েন না