নানা জল্পনা-কল্পনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেয়েছেন ইরানের ফুটবলাররা। হোয়াইট হাউজের দাবি, লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম ম্যাচের আগে ইরান দলের খেলোয়াড়দের ভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে ইরানের দাবি, দলের কয়েকজন টেকনিক্যাল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এখনো ভিসা পাননি।
ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, জাতীয় দলের কয়েকজন টেকনিক্যাল ও নির্বাহী কর্মকর্তার ভিসা এখনো ইস্যু হয়নি। সংস্থাটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত তাদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বিশ্বকাপের মাত্র কয়েকদিন আগে ইরানের মেক্সিকোস্থ রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদেহ অভিযোগ করেছিলেন, ম্যাচ শুরুর ১০ দিন আগেও দলটির সদস্যরা ভিসা পাননি। এরপর বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এবারের বিশ্বকাপও ভূ-রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। সেই বাস্তবতায় বিশ্বকাপ আয়োজন ও অংশগ্রহণের বিষয়টিও রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে।
শুরু থেকেই তেহরান চেয়েছিল তাদের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়া হোক। ভিসা জটিলতার কারণে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। রোববার ইরান দলের মেক্সিকোর তিজুয়ানায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে তারা প্রস্তুতি ক্যাম্প করবে।
‘জি’ গ্রুপে থাকা ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে। ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে তারা। এরপর বেলজিয়াম ও মিশরের মুখোমুখি হবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি জানিয়েছেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে বিশ্বকাপ প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। আইআরজিসি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি প্রভাবশালী শাখা।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অনুমতি পাননি ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ। তিনি আইআরজিসির সাবেক কর্মকর্তা।
তবে ইরানের রাষ্ট্রদূত পাসান্দিদেহ মনে করেন, শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার ইরানের সিদ্ধান্তই শান্তির প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রমাণ।
তার ভাষায়, “বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ, এমনকি যাকে তারা প্রতিপক্ষ মনে করে সেই দেশের মাটিতেও খেলা, প্রমাণ করে যে ইরান শান্তি চায়।”
যদিও দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা ধীরগতিতে এগোচ্ছে, তবু বিশ্বকাপের মঞ্চে ইরানের উপস্থিতি কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও ক্রীড়ার ঐক্যের বার্তা বহন করছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

