প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করবেন—এমনটা তারও মনে হয়নি। তবে গণমাধ্যমে যেভাবে এ নিয়ে আলোচনা ও প্রচার চলছিল, শেষ পর্যন্ত সেটিই বাস্তবে ঘটেছে।
শনিবার সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির ১২ জন নেতাকে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করবেন, আমারও মনে হয়নি। কিন্তু আপনারা গণমাধ্যমে যেভাবে প্রচার চালিয়েছেন, সত্যি সত্যিই সেটা ঘটল। তিনি তার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে এবং তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমরা এটুকুই জানি এবং এই তথ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব।’
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি দলের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী ফোরামের সিদ্ধান্তের বিষয়। এ বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিছু জানেন না। রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে যেসব আলোচনা চলছে, সেগুলো সম্পর্কেও বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে কে আসবেন কিংবা এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ও নির্বাহী কমিটিই নির্ধারণ করবে।
সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিএনপির নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্তরা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রজীবন থেকে দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তাঁরা প্রত্যেকেই যোগ্য। তাঁরা সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং কোনো প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার করবেন না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রিজভী বলেন, কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তরুণদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা নেতাদের মূল্যায়ন করেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, নবনিযুক্তরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করে তুলবেন।
তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে বলেন, চার মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ড চালুর অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
রিজভীর দাবি, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং তাঁরা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। সরকার ধারাবাহিকভাবে বেকারত্ব কমাতে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নবনিযুক্তদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তাদের প্রমাণ করতে হবে যে রাজনৈতিক নেতৃত্বও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

