জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী পুলিশসহ দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে গণতান্ত্রিক সংস্কার আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ দেড় যুগ পর একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার গঠিত হয়েছে। ফলে সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আর সেই প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত নির্বাচনি ইশতিহার বাস্তবায়নে কাজ করতে চায় সরকার।
সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন। সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম, সক্ষমতা ও কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক সংস্কার আনতে হলে আগে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। কোন খাতে আগে পরিবর্তন প্রয়োজন, কোথায় কাঠামোগত সংস্কার দরকার এবং কোন ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি এসব বিষয় পর্যালোচনা করে পরিকল্পনা নিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন এবং নৈতিকতার মান উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে চায় সরকার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন জনবল নিয়োগের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুমোদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করা গেলে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহজ হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যুগোপযোগী উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সংস্থার প্রধানদের পরামর্শ ও সুপারিশমালা তৈরির নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সংস্কারের অগ্রাধিকার ঠিক করা হবে এবং ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
সভায় স্বরাষ্ট্রসচিব (রুটিন দায়িত্ব) দেলোয়ার হোসেন, আইজিপি বাহারুল আলমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

