দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ পর্যটনকেন্দ্র, কক্সবাজারের টেকনাফের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সেন্টমার্টিন আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে।
রোববার পর্যটন গমনবিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু নতুন সিদ্ধান্তও এসেছে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পহেলা নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। যদিও গত কয়েক বছর ধরে এই সংখ্যা দুই হাজারে সীমিত রেখেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
সূত্র বলছে, এবার পর্যটকদের সুবিধার্থে নানা ধরনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপনের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্বীপটিতে পর্যটক ভ্রমণে ১২টি নির্দেশনা জারি করেছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।
সূত্রমতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নেতৃত্বে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সে সময় পর্যটক সীমিতকরণ ও সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে স্থানীয় ও দ্বীপটির অধিবাসীদের পক্ষ থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করা হলেও তখন সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।
দ্বীপটির বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের মতে, ওই বিধিনিষেধের ফলে দ্বীপটিতে গত এক বছরে পর্যটন ব্যবসায় যেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তেমনই জীবিকার টানে অনেকে বাধ্য হয়ে গাছ কেটে ফেলা বা অবাধে মাছ ধরার মতো বিরূপ তৎপরতায় জড়িয়ে পড়েছেন। যে কারণে সেখানকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন।
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা বিধিনিষেধগুলোর মধ্যে যেগুলো পরিবেশের জন্য যৌক্তিক, সেগুলোর কিছু অংশ বহাল রাখা হতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


