অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে চার বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের উত্তর তারাকুচা গ্রামের বুলবুল আহমেদের একমাত্র ছেলে আবুল হাসান ফরহাদ (২৫)।
স্বপ্ন ছিল—প্রবাসের আয় দিয়ে মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাবেন, ঘুচাবেন পরিবারের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন পরিবারটির কাছে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। গত ছয় মাস ধরে সৌদি আরবের দাম্মাম এলাকার একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন তিনি। কী কারণে তাকে কারাবন্দি করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারের কেউই কিছু জানেন না। একমাত্র ছেলের কারাবন্দির খবর পাওয়ার পর থেকেই থামছে না মায়ের কান্না। বুকফাটা আর্তনাদ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই ভাইবোনের মধ্যে ফরহাদ সবার বড়। স্থানীয় আমজাদহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর তিনি কিছুদিন আমজাদহাট বাজারের একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করেছিলেন।
চার বছর আগে সৌদি আরবপ্রবাসী খালু নূরনবীর সহযোগিতায় দেশটিতে যান ফরহাদ। সেখানে দাম্মাম সুপার মার্কেটের একটি সুপার শপে কাজ নেন তিনি। এরপর থেকে ভালোই চলছিল তার প্রবাসজীবন। তবে হঠাৎ করেই বদলে যায় সবকিছু।
ফরহাদের নানা মফিজুর রহমান জানান, জামাতা নূরনবীর মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে দাম্মাম সুপার মার্কেটের পাশের একটি মহল্লা থেকে কে বা কারা ফরহাদকে ধরে নিয়ে যায়। তবে কারা এবং কী কারণে তাকে তুলে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের জানা নেই।
মফিজুর রহমান আরও বলেন, প্রায় এক মাস আগে ফরহাদ বাড়িতে ফোন করে জানায়, সে সৌদি আরবের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছে। তবে কী অপরাধে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে সে কিছুই বলতে পারেনি।
এদিকে ফরহাদের বাবা বুলবুল আহমেদ গত ২০ বছর ধরে পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থান করছেন। ছেলের কারাবন্দির খবরে তিনিও দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের এলাকায় যথেষ্ট সুনাম ছিল। সবাই তাকে ভালো ছেলে হিসেবে জানত। কারও সঙ্গে কখনো কোনো বিরোধ বা সমস্যা ছিল না। কেন তাকে আটকে রাখা হয়েছে, আমরা তার কিছুই জানি না।’ সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ছেলের মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ওই আবেদনের কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, প্রথম কয়েক মাস পরিবারটি ফরহাদকে নিখোঁজ মনে করেছিল। ছেলের শোকে পাথর হওয়া মা ফেরদৌস আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার জানামতে আমার ছেলে কোনো অপরাধ করতে পারে না। এক মাস আগে জানতে পেরেছি সে কারাগারে বন্দি রয়েছে। অবিলম্বে ছেলের মুক্তির জন্য সরকারের উচ্চ মহলের জোরালো সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এদিকে বন্ধুর নিঃশর্ত মুক্তি এবং তার সন্ধানে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ফরহাদের দুই বাল্যবন্ধু। এ ছাড়া ফরহাদের খালা নার্গিস আক্তার ও মামা সরোয়ার জাহান রুবেলের অভিযোগ, বারবার খোঁজ নিয়েও তারা ফরহাদের বন্দিদশার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে পারেননি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

