বরিশালের উজিরপুরে যুবদল কর্মী কাওছার হাওলাদার (৩২) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেল উপজেলার পশ্চিম সাতলা একতা বাজারের প্রধান সড়কে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে হত্যার নেপথ্য কারণ উদঘাটন এবং মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আবদুল হক হাওলাদারের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন—বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন হাওলাদার, হামলায় আহত যুবদল নেতা রাশেদ আমিন হাওলাদার, নিহতের মেজো ভাই মোস্তফা হাওলাদার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার, সাতলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ এবং সাবেক ইউপি সদস্য এনামুল হাওলাদার।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াছ হাওলাদার, নিহতের স্ত্রী সাগরী বেগমসহ পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। মানববন্ধনে নারী-পুরুষসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উজিরপুর-কোটালীপাড়া সীমান্তবর্তী পশ্চিম সাতলা এলাকায় কাওছার হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা থেকে একটি হাইয়েস গাড়ি এবং ঢাকা ও বরিশাল থেকে বেশ কয়েকটি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে করে একদল দুর্বৃত্ত ওই এলাকায় আসে।
হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে কাওছার ও রাশেদ পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কাওছার হাওলাদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তবে রাশেদ আমিন দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যান বলে স্থানীয়রা জানান।
পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে এবং অবস্থার অবনতি হলে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওছার হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ গোপালগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মেজো ভাই মোস্তফা হাওলাদার বাদী হয়ে ২৪ অক্টোবর উজিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামাসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের টোল প্লাজা এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলাউল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। পলাতক অন্যদের আটকের জন্যও সাঁড়াশি অভিযান চলছে।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পশ্চিম সাতলা এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

