১৬ বছরেও শেষ হয়নি বিএনপি নেতা বাবু হত্যার বিচার

১৬ বছরেও শেষ হয়নি বিএনপি নেতা বাবু হত্যার বিচার
ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নূর বাবুকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ১৬ বছর পার হলেও এ মামলার বিচার শেষ হয়নি। ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর বিএনপির মিছিলে হামলা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। এ সময় হামলাকারীরা বাবুকে পিটিয়ে এবং হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন বাবুর স্ত্রী মহুয়া নূর কচি বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় ২৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এতে নাটোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বনপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র কেএম জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে বনপাড়া পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন বাবু। এরপর বাবু মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেন। ওই সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু তার এই জনপ্রিয়তা তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মেনে নিতে পারেননি। এরপর থেকেই তিনি প্রাণনাশের হুমকি পেতে থাকেন। থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন বাবু।

২০১০ সালের ৮ অক্টোবর বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে বনপাড়া পৌর বিএনপির মিছিলে অংশ নেন বাবু। এ সময় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

জানা গেছে, একাধিক তদন্ত কর্মকর্তা বদলের পর বিগত আওয়ামী সরকারের শেষদিকে সিআইডি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন অভিযুক্তের নাম বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। এতে বাদী নারাজি আবেদন করলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করলে মামলার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।

মামলার বিষয়ে বাবুর স্ত্রী মহুয়া নূর কচি জানান, আওয়ামী সরকারের পতনের পর তিনি মামলার কার্যক্রম পুনরায় চালুর জন্য আবেদন করেছেন। তার আশা, শিগগিরই মামলার কার্যক্রম শুরু হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন