ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বিপুল ভোটে জয়ের আশা করছেন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. দেলাওয়ার হোসেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন দেলাওয়ার হোসেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, সবাই যেন ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও সাহসের সঙ্গে ভোট দেন। পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করে আগামী দিনের স্বপ্নের ঠাকুরগাঁও গড়তে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
পরিচয়পত্রে ছবি না থাকায় উদ্বেগ
ভোটের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ভোট কেবল শুরু হয়েছে। তাই এখনই পরিবেশ নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার সময় আসেনি। আরও কিছু সময় গেলে পরিস্থিতি বোঝা যাবে।
তবে কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি না থাকার বিষয়টি তার নজরে এসেছে বলে জানান তিনি। দেলাওয়ার হোসেন বলেন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার গলায় থাকা পরিচয়পত্রে কোনো ছবি নেই। সেখানে তিনি শুনেছেন, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রেও ছবি নেই। ছবি না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রকৃত কর্মকর্তা কি না, তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন। অন্য কেউ তার পরিচয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখতে রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের এই প্রার্থী।
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব সরকার, প্রশাসন ও নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বলে মন্তব্য করেন দেলাওয়ার হোসেন। তার মতে, সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিক হলেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।
তিনি বলেন, আগের দিন পর্যন্ত যেসব অভিযোগ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে আজ অন্তত জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলে তিনি আশা করছেন। সরকার, প্রশাসন ও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি তার এই প্রত্যাশা রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থ হলে দলীয় সরকারের অধীনে ভবিষ্যতের স্থানীয় নির্বাচনসহ অন্য নির্বাচনগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে বলে সতর্ক করেন তিনি। এতে মানুষ নির্বাচন সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেন দেলাওয়ার হোসেন।
বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ
বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটি ঘটনার অভিযোগও তোলেন জামায়াতের এই প্রার্থী। তিনি বলেন, গতকাল রাজাগাঁও ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের একজন কর্মীকে বোরকা পরিয়ে গভীর রাতে বাইরে বের করেন। পরে তারাই ওই কর্মীকে ধরে ভিডিও করেন। কিন্তু তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দেলাওয়ার হোসেনের ভাষ্য, নিজেদের দলের একজন কর্মীকে বোরকা পরিয়ে ভোট চাওয়ার অভিনয় করানো, পরে তাকে ধরে টিকটকের মতো ভিডিও তৈরি করে আনন্দ-উল্লাস করার ঘটনা বিস্ময়কর। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। তার মতে, এতে জনগণের মধ্যে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ধারণা তৈরি হবে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য তার বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।
শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকার ঘোষণা
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, কয়েকটি জায়গায় তার দলের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রশাসনকে জানাবেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান দেলাওয়ার হোসেন। সে সময় জনগণের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, সাত মাসের মধ্যে বিজয়ী প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে বঙ্গভবনে যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। ফলে তার সামনে আবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, আগের নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী তাকে ভালো ছেলে হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, তার সামনে সময় আছে এবং সেটিই ছিল তার নিজের শেষ নির্বাচন। এ কারণে এবার ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ তাকেই ভোট দেবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।
নির্বাচন থেকে মাঝপথে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়ে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, তারা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন এবং বিজয় অর্জনের লক্ষ্যেই নির্বাচনে নেমেছেন।
তবে ভোটের পরিবেশের ওপর তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, মাগুরা, শেরপুর বা বগুড়ার মতো নির্বাচন করার চেষ্টা হলে—যেখানে দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যে পুরো নির্বাচন দখলে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়—তখন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন।
অন্যদিকে, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে এবং ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে ফলাফল মেনে নেওয়ার কথা বলেন দেলাওয়ার হোসেন। তার মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচনের ফল মেনে নিতে হবে। তবে অনিয়ম ও কারচুপি হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে।
তিনি বলেন, সারা দেশে এবার একটিই নির্বাচন হওয়ায় নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রাখছে। শেষ পর্যন্ত তিনি তাদের ওপর আস্থা রাখতে চান।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


