প্রাকৃতিক সম্পদের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ৫৫ বছরেও বাংলাদেশ পর্যটন খাতকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। নেপালের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর সাফল্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে দেশের পর্যটন শিল্প এখনো পিছিয়ে রয়েছে।
একটি ভিডিও বার্তায় নেপাল সফরের অভিজ্ঞতা ও সমসাময়িক পর্যটন পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সাদিক কায়েম জানান, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দেশ নেপাল পর্যটন শিল্পে অভাবনীয় সাফল্য দেখাচ্ছে। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ১১ লাখ ৫৮ হাজার আন্তর্জাতিক পর্যটকের আগমন ঘটেছে এবং তাদের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশের বেশি সৃষ্টি হয়েছে পর্যটন খাত থেকে। বিপরীতে বাংলাদেশে ২০২৫ সালে পর্যটন খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ৩ শতাংশ।
তিনি উল্লেখ করেন, নেপাল সরকার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ফুট উঁচুতে দুর্গম পাহাড়ে আধুনিক কেবল কার নেটওয়ার্ক, হেলিপ্যাড, উন্নত রিসোর্ট এবং সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিশ্বমানের পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রয়েছে বিশাল প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য। দেশের প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ জুড়ে থাকা পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের সবুজ পাহাড়, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন, বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চল, সিলেট-মৌলভীবাজারের দৃষ্টিনন্দন চা বাগান এবং রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক নিদর্শন পর্যটনের বড় শক্তি।
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, কক্সবাজারসহ প্রধান প্রধান পর্যটন এলাকায় বারবার নানা অব্যবস্থাপনা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার কারণে বিদেশি পর্যটকেরা বাংলাদেশ ভ্রমণে আস্থা পাচ্ছেন না। ফলে গত ৫৫ বছর ধরে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তা কাজে লাগানো যায়নি।
তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এই খাতকে ঢেলে সাজানোর বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষ নেতৃত্ব ও সঠিক মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


