জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে পরিবর্তন ও পালাবদলের হাওয়া বইলেও ব্যতিক্রম চিত্র বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে (বাপাউবো)। প্রতিষ্ঠানটি এখনো ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রভাবশালী নেতাদের দখলে রয়েছে।
শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত সাবেক মন্ত্রিপরিষদ ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কবির বিন আনোয়ারের ঘনিষ্ঠরাই এখন বাপাউবোর গুরুত্বপূর্ণ সব পদে কর্মরত। তার ইশারাতেই এখনো পাউবোর বদলি-পদায়ন হচ্ছে বলে জানা যায়।
কবির বিন আনোয়ার ২০২৪ সালের আমি-ডামি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তার ঘনিষ্ঠ বর্তমান মহাপরিচালকের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গত ১৭ বছরের মতো এখনো দাপটের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মকর্তাদের। কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার কর্মকর্তাদের। এ নিয়ে এসব কর্মকর্তার মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। যা প্রকাশ পাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সিবিএ নেতারা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে আওয়ামী সিন্ডিকেট রক্ষায় কাজ করছে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পাঠানো একটি নথি এসেছে আমার দেশের হাতে। এতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ থেকে শুরু করে সহকারী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন পর্যন্ত মোট ৪০ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। যাদের কেউ আওয়ামী ফ্যাসিস্ট এবং ফ্যাসিস্টদের আশ্রয়দাতা। কেউ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। আবার কেউ কেউ ইসকন সদস্য। এদের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘র’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ রয়েছে।
নথির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ৬১ সদস্যের পাউবো বঙ্গবন্ধু পরিষদের সবশেষ কমিটি অনুমোদনের প্যাড। যাদের অধিকাংশই এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। এসব কর্মকর্তা পলাতক কবির বিন আনোয়ারকে অনুসরণ করছেন বলে মনে করছে ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মকর্তারা।
এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সোচ্চার থাকা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মাহবুবে মওলা মো. মেহেদী হাসানকে বাপাউবোর ড্যাম অ্যান্ড ব্যারাজ দপ্তর থেকে গত ২৯ এপ্রিল বদলি করে টাঙ্গাইলে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। পরে সমালোচনার মুখে পড়ে ১৫ দিনের মাথায় গত ১৪ মে তাকে আবার ঢাকা সার্কেল-২ এ বদলি করা হয়। প্রকৌশলী মেহেদী ছিলেন- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারী কর্মকর্তাদের একজন।
অপরদিকে, টাঙ্গাইল থেকে বদলি করে ঢাকা সার্কেল-১ এ নিয়ে আসা হয়েছে ফ্যাসিস্টের পক্ষ নেওয়া সচিব কবিরের অনুসারী মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামকে। আওয়ামী আমলে কবির বিন আনোয়ার ঘনিষ্ঠদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই সিরাজুল ইসলাম। এখনো কবিরের গুণগান গেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা একাধিক পোস্ট রয়েছে সিরাজুল ইসলামের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
নথিতে দেখা যায়, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পাউবোর প্ল্যানিং দপ্তরে কর্মরত ড. রবিন কুমার বিশ্বাসকে দেখানো হয়েছে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ও সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার হিসেবে। সেইসঙ্গে ড. রবিন ইসকনের সদস্য বলেও উল্লেখ রয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে বলেও তালিকায় দেখা যায়।
রবিন চাকরির শুরু থেকেই সহকারী প্রকৌশলী পদ থেকে শুরু করে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পাউবোর পরিকল্পনা দপ্তরে কর্মরত আছেন। পদে থেকে ক্ষমতার সর্বোচ্চ অপব্যবহার করেছেন বলে আমার দেশকে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা। তাকে সহযোগিতা করেছে ডিজি এনায়েত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিকল্পনা দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ এক কর্মকর্তা আমার দেশকে জানান, ড. রবিন এবং পাউবোর রংপুর জোনের উপ-প্রধান সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অমলেশ রায়কে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আদালতে সাজার রায় প্রকাশের দিন অফিস কক্ষে উৎসবে মেতে উঠতে দেখেন তিনি।
এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে ড. রবিন আমার দেশকে বলেন, আমি আমার জানামতে জীবনে কখনো ছাত্রলীগ করিনি। আপনি যাচাই করেন। আর আমি ইসকন সদস্য হতে যাব কেন? মানেই হয় না। ‘র’এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।
খালেদা জিয়ার সাজার রায়ের পর উৎসব করার বিষয়ে তিনি বলেন, এর কোনো প্রশ্নই আসে না। আমি তো তখন সম্ভবত দেশের বাইরে ছিলাম। এটা কী হতে পারে?
বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক এবং বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতা ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ইউকসু) নির্বাচনে ছাত্রলীগের হয়ে জিএস নির্বাচন করা প্রকৌশলী দেওয়ান আইনুল হক (শাম্মা) বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কেন্দ্রীয় জিআইএস সেলে কাজ করছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদেরও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও সবশেষ কমিটিতে রয়েছেন। গত মাসেই তাকে ঢাকা সার্কেল-১ থেকে বদলি করে এই দপ্তরে পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী প্রভাব খাটিয়ে তিনি ঢাকায়ই অবস্থান করছেন।
বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ২০২১-২২ সালের কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক টি এম রাশেদুল কবির প্রসেসিং দপ্তরে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বর্তমানে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ফান্ডের যমুনা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক থাকা অবস্থায় সুস্পষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে। তাকে শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশও করেছিল কমিটি।
কিন্তু পাউবোর আওয়ামী সিন্ডিকেট ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের আরেক নেতা সাবেক প্রধান প্রকৌশলী তারেক আব্দুল্লাহ আল ফায়াজকে দিয়ে তদন্তের রিপোর্ট ধামাচাপা দেওয়া হয়। রাশেদুল ছিলেন বুয়েটের একটি হলের ছাত্রলীগ সভাপতি।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী রাশেদুল আমার দেশকে বলেন, আমি আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলাম না। বঙ্গবন্ধু পরিষদ বা প্রকৌশলী পরিষদ কোনোটিতেই ছিলাম না। যমুনা প্রকল্পের পরিচালক থাকা অবস্থায় দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। তদন্তে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
বঙ্গবন্ধু পরিষদের তালিকায় আরো রয়েছেন প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী। তিনি বর্তমানে রাজশাহী পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত । প্রকৌশলী প্রবীর ছিলেন ছাত্রলীগ ক্যাডার। তাকে ইসকন সদস্য হিসেবেও তালিকাভুক্ত করা হয়।
নথিভুক্ত আওয়ামী সরকারের সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের অতীব ঘনিষ্ঠ বরিশালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বর্তমানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরে আছেন । কক্সবাজার ও খুলনা সার্কেলে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে সেখান থেকে সাসপেন্ড ও উইথড্র করা হয়। দুদকেও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ ফেনী পানি উন্নয়ন সার্কেলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত । তিনি গত মাসে পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনার সময় বোর্ডের সদস্য হিসেবে অংশ নিয়েছেন। আলোচনা শেষে করমর্দনের সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আমার বাড়ি বগুড়া। সেখান থেকে ফিরে তিনি বোর্ড কর্মকর্তাদের গর্বের সঙ্গে এ বিষয়ে বলছেন বলে আমার দেশকে জানিয়েছেন পাউবোর এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী হাসান আমার দেশকে বলেন, আমি জানিও না আমাকে ওই কমিটির সদস্য বানানো হয়েছে। আমাকে না জানিয়েই পরিষদে সদস্য করেছিল। আর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ওনাকে বলেছি আমার বাড়ি বগুড়া। এটা সত্য।
বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের আরেক প্রভাবশালী সদস্য প্রকৌশলী কোহিনুর আলম বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে গঙ্গা ব্যারাজে কর্মরত। সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার কহিনুরের ভাই ছিলেন আওয়ামী লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান।
বঙ্গবন্ধু পরিষদের নির্বাহী সদস্য রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বর্তমানে টাঙ্গাইল সার্কেলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে আছেন। নথিতে দেখা যায় তিনি হলেন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ও ইসকন সদস্য।
এছাড়াও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত উল্লেখযোগ্যরা হলেন- মেকানিক্যালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শওকত আলী, মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান, রিভার ম্যানেজমেন্টের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান মিশুক, সহকারী প্রকৌশলী জনি কুমার পাল ও কালি কিংকর সাহা।
নথিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে- সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডাররাও এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এছাড়াও উল্লেখ করা হয় দক্ষিণ অঞ্চল বরিশালের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দীক ভুঁইয়া, ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার, পাবনা পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শুধাংশু কুমার সরকার, বরিশাল পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা, রিভার মরফোলোজির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) সদস্য আনোয়ার কাদির, ঢাকা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত, ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মতিউর রহমানদের নাম।
পাউবোতে থাকা ইসকন সদস্যদের নামও উল্লেখ রয়েছে নথিতে। এদের মধ্যে রয়েছে কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার, শুধাংশু কুমার সরকার, পার্থ প্রতীম সাহা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিদপ্তর এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী লিটন কুমার সরকার, মোহন লাল সৈকত, ডিজাইন সার্কেল-৭ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পলি দাস প্রমুখ।
নথিতে দেখা যায়, পাউবোর বর্তমান মহাপরিচালক প্রকৌশলী এনায়েত উল্লাহ বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মন্ত্রণালয়ের সব পর্যায়ের মিটিং-সেমিনারে টিএম রাশেদুল কবির রানা এবং ড. রবিন কুমার বিশ্বাসকে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা হিসেবে সরকারে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। এতে বলা হয়, এনায়েত আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের এবং সহযোগীদের শেল্টার দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী এনায়েতের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেওয়া হলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
এখনো আওয়ামী কর্মকর্তাদের বহাল থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানকে মেনশন করে এবং সরকারের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীদের উদ্দেশে প্রকৌশলী মেহেদী হাসান লেখেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে আমরা জানতে পেরেছি- আপনারা প্রশাসনের আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের, বিশেষ করে প্রকৌশল ডিপার্টমেন্ট থেকে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সরাতে চাইছেন না এই বিবেচনায় যে, তারা অনেক যোগ্য, স্মার্ট। বিগত ১৬-১৭ বছর তারা ফ্রন্টলাইনে থেকে অনেক যোগ্য এবং স্মার্ট হয়ে গেছে! তাই তাদেরকে তাদের পজিশন থেকে সরিয়ে দিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিএনপি সরকার অচল হয়ে যাবে! দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম ব্যাহত হবে। কৃষক কার্ড-ফ্যামিলি কার্ড ইত্যাদি কর্মসূচি ভেস্তে যাবে! এভাবেই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দালালরা আপনাদের বুঝিয়েছে এবং আপনারাও তাতে কনভিন্সড হয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, তাহলে আমাদের প্রস্তাব হচ্ছেÑ ফ্যাসিবাদের দোসর চ্যালারাই যদি এত যোগ্য এবং স্মার্ট হয়, তাহলে তাদের নেত্রী খুনি হাসিনা আরো কত বেশি যোগ্য এবং স্মার্ট হওয়ার কথা! তাহলে আপনারা তাকেই আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসুন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মাহবুবে মওলা মো. মেহেদী হাসান আমার দেশকে বলেন, বাপাউবোতে সরকারপন্থি সিবিএ-এর একটি শীর্ষ ক্ষুদ্র অংশ ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সিন্ডিকেটের সঙ্গে হাত মেলানোয় বাপাউবোতে ফ্যাসিবাদবিরোধী যে কয়েকজন কর্মকর্তা আছেন, তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও তাদের কষ্ট এখনো দূর হয়নি। তাদের মনে যে ক্ষীণ আশা ছিল- একদিন এসব অন্যায়-অত্যাচার দূর হবে, কিন্তু গুটিকয়েক স্বার্থান্বেষী কর্মকর্তা এবং সিবিএ-এর কারণে তা হয়ে ওঠেনি। সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে সিবিএ-এর ঐ শক্তিশালী চক্র আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের এখনো শেল্টার দিচ্ছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কালেক্টিভ বার্গেনিং এজেন্ট (সিবিএ) সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু আমার দেশকে বলেন, ইতোমধ্যে সরকার কিছু আওয়ামী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। সামনে আরো নেবে। আওয়ামী লীগের লোকজন এখন খুব একটা নেই। একটা দুইটা জায়গায় আছে সেগুলো সরানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রী বসে এগুলো নিয়ে কাজ করছেন। যখন অন্তর্বর্তী সরকার ছিল আমরা বহু চেষ্টা করেছি। আমরা লিখিত দিয়েছি। বঙ্গবন্ধু পরিষদের তালিকাসহ আমরা আবেদন করেছি, কথা শোনেনি। এখন ধীরে ধীরে এগুলো নিয়ে কাজ চলছে। একেবারে তো আর সব কাজ হবে না।
তিনি বলেন, সিবিএ নেতারা আওয়ামীদের রক্ষা করার প্রশ্নই আসে না। কী বলেন না বলেন এগুলো। এগুলো যারা বলে তারা হয়তোবা কোনো সুবিধা কোথাও চায়। আমার চাকরি ছিল না। ৫ আগস্ট না হলে আমার ফাঁসি হতো। যারা এসব বলে ১৭ বছর তারা কোথায় ছিল?
ঢাকা বাপাউবোর প্রধান প্রকৌশলী (পিআরএল) একেএম শরিফুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, এখনো আওয়ামী ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ নেতারা রয়ে গেছে। তাদের সম্পর্কে ধীরে ধীরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আমরা আশাবাদী। তবে এখন যে সেটআপ আছে, একই সেটআপে পরিবর্তন করা কঠিন।
এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য পানিসম্পদ বিষয়কমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের মোবাইলে একাধিকবার কল করে তাদের পাওয়া যায়নি। মেসেজ দেওয়া হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

