স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট হবে।
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা হচ্ছে—যদি চার্জশিট হয়, তবে তাকে আদালতের এখতিয়ারে যেতে হবে এবং আইনের আওতায় আসতে হবে। আর দলীয় ব্যবস্থা হচ্ছে দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা, যা আইনের বাইরের বিষয়।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সংসদ সদস্য মিষ্টি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, “তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না, আমি জানি না; এটা মাননীয় স্পিকার বলতে পারবেন। এটা আমার এখতিয়ারে নাই। এটা মাননীয় স্পিকারের সংরক্ষিত বিষয়। দলীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে একটু ধৈর্য ধরার জন্য অনুরোধ করছি।”
তিনি বলেন, দলীয় ব্যবস্থা হচ্ছে দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা, যা আইনের বাইরের বিষয়। আর আইনি ব্যবস্থা হচ্ছে—যদি চার্জশিট হয়, তবে তাকে আদালতের এখতিয়ারে যেতে হবে এবং আইনের আওতায় আসতে হবে। তার আগ পর্যন্ত একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কিছু বলা সঠিক হবে না।
আজকে মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান চলছে এবং কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। একদিকে আপনি বললেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, অন্যদিকে ফুটপাতে উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে; এই অস্থিরতার সঙ্গে আসলে কোন মহল জড়িত বলে মনে করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, হকারমুক্ত করাটা নাগরিকদের দাবি। আমরা হকারদের বেকার করতে চাই না। তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান অথবা বিকল্প জায়গা বের করার জন্য অলরেডি আমাদের কয়েকটা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হলিডে মার্কেট করার চেষ্টা করছি। কিন্তু যত্রতত্র বসে যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি করা দুর্ঘটনার কারণ এবং এতে জনগণকে আমরা স্বস্তি দিতে পারছি না। হকার এমনভাবে ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে থাকে (যেমন মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে), সেখানে সাধারণ নাগরিকদের কি অধিকার নাই।
তিনি বলেন, শুধু হকারদের প্রোভাইড করার জন্য, তাদের কর্মসংস্থানের জন্য আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করি; কিন্তু সড়ক বন্ধ করে তো নয়। এটা সিটি কর্পোরেশনের রেগুলার একটা কাজ, তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আছেন এবং আমরা পুলিশের সহায়তা দিয়ে থাকি। তারা ফুটপাত দখলমুক্ত করে, হকারমুক্ত করে। তবে সঙ্গে সঙ্গে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি যাতে কেউ বেকার না হয়, সেজন্য একটি ডিসিপ্লিনে আসতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা আজকেই করতে পারব এমন নয়, তবে আমরা কয়েকটি জায়গায় চেষ্টা করেছি। নাগরিকদের যাতায়াতের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে, স্বচ্ছন্দতা রাখতে হবে, সড়কের শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক সিস্টেম বজায় রাখতে হবে। এগুলো সবগুলোই একসঙ্গে চিন্তা করতে হবে। উচ্ছেদ অভিযান কাউকে বেকার করার জন্য নয়, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করার জন্যই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


